স্টাফ রিপোর্টার
নির্বাচনী প্রচারনার শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফের ধানের শীষ প্রতীকের বিশাল নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেয়।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান বুলা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের মনোনীত পদপ্রার্থী প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পিটুর সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, সিআইপি সাহিদুজ্জামান টরিক, লে. কর্ণেল সৈয়দ অব. কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম নজু, পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মোমিন মালিতা, জেলা জাসাসের সাধারন সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা মহিলা দলের নেত্রী রউফুন নাহার রিনা প্রমুখ।
শরীফুজ্জামান শরীফের বড় ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিংগাপুর প্রবাসী আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক (সিআইপি) বলেন, আমি আপনাদেরকে একটি কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই আজকাল ফেসবুক ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম প্রচারণা চলছে। কিন্তু আমরা চুয়াডাঙ্গার মানুষ ভালো করেই জানি, ভোট ফেসবুকে হয় না। ভোট হয় মাঠে, ভোট হয় কেন্দ্রে, ভোট হয় মহল্লায়, ভোট হয় আপনার নিজের ঘরে। আজ যাদের বিরুদ্ধে আমাদের ভোট, তাদের নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। যারা জামায়াতে ইসলামের রাজনীতি করেন, তারা জামায়াতে ইসলামের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকেই ভোট দেবেন যতই তাদের বোঝানো হোক না কেন, তারা দাঁড়িপাল্লা ছাড়া অন্য কোথাও ভোট দেবেন না।
আমি বিশেষ করে নতুন ভোটার এবং তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই আপনারা আপনাদের আশপাশের বয়স্ক মানুষদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করবেন, এই বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামের ভূমিকা কী ছিল। আজ যে বাংলা ভাষায় আমরা কথা বলছি, এই ভাষার জন্য আমার ভাইয়েরা জীবন দিয়েছেন। আজ যে লাল-সবুজের পতাকা আমরা গর্বের সাথে উড়াই, যে সবুজ পাসপোর্ট দিয়ে আমাদের সন্তানদের বিদেশে পাঠাই এই স্বাধীনতা ও এই পাসপোর্টের জন্য লাখো যুবক প্রাণ দিয়েছেন, লাখো মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে কারা ছিল, তা আপনারা মুরুব্বীদের কাছেই জানতে পারবেন। সবশেষে আমি আপনাদেরকে দৃঢ়ভাবে বলতে চাই আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে শরীফুজ্জামান শরীফকে বিজয়ী করুন।
প্রধান অতিথি শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, আজ ৯ই ফেব্রুয়ারি, দীর্ঘ প্রচারণার আজকে শেষ দিন। গত কয়েক মাস আগে আমি আপনাদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, আমার দলীয় সহকর্মী ও নিকটজনদের নিয়ে। আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, যে মমতা দিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনাদের কাছে চিরঋণী। আপনাদের দ্বারে গিয়ে আমি শুধু ভোটই চাইনি, বরং আপনাদের দুঃখ-দুর্দশা, আপনাদের সম্ভাবনা ও আগামী স্বপ্নের কথা আমি শুনেছি। আপনারা জানেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষি বিপ্লব, জনশক্তি রপ্তানি ও গার্মেন্টস শিল্পের মাধ্যমে এদেশের অর্থনীতির ভিত্তি গড়েছিলেন। গণতন্ত্রের মা আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে বেগবান করেছিলেন বিশেষ করে নারী শিক্ষাকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করে আজ সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীদের জয়জয়কার নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো বলেন, আজ আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান আগামীর আধুনিক বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। ইনশাআল্লাহ, বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হবে। প্রতিটি কৃষক কৃষি কার্ড পাবেন এবং প্রতিটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। প্রত্যেকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য আপনারা স্বাস্থ্য কার্ড পাবেন। আমাদের যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে উন্নত ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। নারীদেরকে হস্তশিল্প ও পশুপালনে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আমার নির্বাচনী এলাকায় সংগ্রামী জনতা, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনটি ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে। উন্নয়নের মূল ধারা থেকে ছিটকে পড়েছে। সংসদে আমাদের বলিষ্ঠ কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না।
শরীফ বলেন, আমি এই চুয়াডাঙ্গার সন্তান। এই মাটির ধূলিকণা আর বাতাসের সাথেই আমার সম্পর্ক। আমি আপনাদের অবহেলার অবসান ঘটাতে চাই। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে চুয়াডাঙ্গাকে মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলবাজমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে আমি গড়ে তুলব। দলমত নির্বিশেষে যোগ্যদের মেধার ভিত্তিতে বিনা ঘুষে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গাতে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। জেলা শহরে একটি মেডিকেল কলেজ করার জন্য আমরা চেষ্টা করব। বাইপাস সড়কসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করে রেখেছি। বাকি কাজটুকু যদি আপনারা সাথে থাকেন, ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুত শেষ করতে পারব। প্রতিটি সরকারি বরাদ্দের জনসম্মুখে শ্বেতপত্রের মাধ্যমে হিসাব দেওয়া হবে। প্রতি চার মাসে একবার করে গণশুনানি করে সেখানে আমি সরাসরি আপনাদের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারব। আগামী ১২ তারিখে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমাদের সামনে যে সুযোগ এসেছে, নির্ভয়ে নিজ নিজের ভোট দেওয়ার জন্য। মনে রাখবেন এটি কেবল ভোটের একটি প্রতীক নয়, এটি আপনার অধিকার ও আগামীর ভাগ্যের জন্য। যে প্রার্থী সংসদে দাঁড়িয়ে আপনার অধিকার আদায় করে আনতে পারবে, তাকেই আপনারা বেছে নিবেন।
আমি আপনাদের শাসক হতে আসিনি, আমি আপনাদের সেবক হতে চাই। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি অথবা আমার কোনো সহযোদ্ধা-সহকর্মীর কাছ থেকে যদি আপনারা চুয়াডাঙ্গাবাসী মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আজকের এই সমাবেশে আমি আপনাদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা সবকিছু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে একত্র করে ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমরা জয়ী করব।
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তারা চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান শরীফকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
এদিকে প্রচারণার শেষ দিনে চুয়াডাঙ্গার ঐতিহাসিক টাউন ফুটবল মাঠে শরীফুজ্জামানের জনসভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে থাকে নেতা কর্মিরা। বেলা ৪টার বাজার পূর্বে টাউন মাঠ জনতার পদভারে পূর্ণ হয়ে যায়। সন্ধ্যা বাজার কিছু পূর্বে নির্বাচনী জনসভা শেষ হয়।



