হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হলে, বাংলাদেশে নতুন করে কোন ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না, জহুরুল ইসলাম আজিজী

স্টাফ রিপোর্টার
সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গাতেও বইছে নির্বাচনের হাওয়া। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজী জেলার উন্নয়নমূলক কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের ৩ জন প্রার্থী চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে প্রতিন্দন্দ্বীতা করছেন। প্রার্থী ৩ জন হলেন জেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফ, ১১ দলীয় জোট ও দাড়িপাল্লা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী দলের জেলা শাখার সহ-সভাপতি হাতপাখা প্রতীকের জহুরুল ইসলাম আজিজি।
সংসদ নির্বাচন নিয়ে জহুরুল ইসলাম আজিজী নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার: আপনার এলাকার ভোটারদের নিয়ে আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কি?
জহুরুল ইসলাম আজিজী: আমি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারি তাহলে আমি প্রথমে শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে নজর দেবো। আমাদের চুয়াডাঙ্গা জেলা যেহেতু কৃষি প্রধান জেলা সেক্ষেত্রে কৃষকদের সকল সুযোগ সুবিধা দেবো। তারা যেন কোন রকম সমস্যার মধ্যে না থাকে তারা তাদের ন্যায্য প্রাপ্তি বুঝে সেদিকে খেয়াল রাখব। কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে জেলায় একটি হিমাগার তৈরি করা হবে। যেখানে কৃষকরা তাদের শস্য ও বীজ সংরক্ষণ করে রাখতে পারবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মাদকের প্রকোপ বেশি। এই মাদকের কারণে আমাদের যুবসমাজ নীতি নৈতিকতা হারিয়ে সমাজের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমি নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করবো। কারন আমরা যদি জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পারি তাহলে একটি সমৃদ্ধশালী জেলায় পরিণত হবে আমাদের চুয়াডাঙ্গা।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার: নির্বাচনী আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কি?
জহুরুল ইসলাম আজিজী: আমরা আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছ থেকে আচরণ বিধি সম্পর্কে অবগত হয়েছি, আমাদের নেতাকর্মীরা যেনো আচারণ বিধি লঙ্ঘন না করে সে বিষয়ে তাদেরকে কঠোর হুঁশিয়ার করা আছে। সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে গিয়ে তারা যেন ভোট প্রার্থনা করে সে ব্যাপারে কঠোরভাবে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজের ভোট নিজে করবে এবং অন্য কোন প্রার্থীর ভোট সংক্রান্ত কোনো বিশৃঙ্খলা করবে না, এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। এখনো পর্যন্ত আমাদের দলীয় নেতাকর্মীর দ্বারা কোন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি। আশা করি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবে।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার: জুলাই সনদ বিষয়ক ভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কি?
জহুরুল ইসলাম আজিজী: এবারে নির্বাচন একটি ব্যতিক্রম নির্বাচন হতে যাচ্ছে, এবার জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট নির্বাচন একই সাথে হতে যাচ্ছে। গণভোট নির্বাচনের সাথে আগামী বাংলাদেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ জড়িত আছে। এজন্য আমরা সাধারণ ভোটারের কাছে মেসেজ দিচ্ছি হ্যাঁ ভোটে ভোট দেওয়ার জন্য। হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হলে আমরা আশা করি বাংলাদেশে নতুন করে কোন ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় যে অধিকার পাওয়া দরকার সে অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
জহুরুল ইসলাম আজিজী: নির্বাচন কমিশন থেকে ঘোষণার পর গত ২২ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছি। নির্বাচনী প্রচারণায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যেটা বুঝেছি, মানুষ নতুনভাবে দেশটাকে বিনির্মাণ করতে চায়। দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যাদের কাছে নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা পাচ্ছে এরকম মানুষকেই তারা আগামীর রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়, যদি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ অবাধ নির্বাচন যদি হয়, তাহলে আশা করছি হাত পাখা প্রতীক সম্মানজনকভাবে জয় লাভ করবে।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার: নির্বাচনে জয়লাভ করলে এলাকায় কি কি করতে চান?
জহুরুল ইসলাম আজিজী: নির্বাচনে জয়লাভ করলে চুয়াডাঙ্গার রাস্তাঘাট, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে কাজ করব। চুয়াডাঙ্গাতে একটি প্রাইভেট কলেজ, একটি কৃষি কলেজ, একটি মেডিকেল কলেজ করব। যুব সমাজের বেকারত্ব দূর করব। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং দুর্নীতিমুক্ত একটি চুয়াডাঙ্গা গড়ে তুলবো।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার: আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আপনি কি মনে করছেন?
জহুরুল ইসলাম আজিজী: ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন নির্বাচনকে ঘিরে অনাকাংখিত অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। এজন্য আমি বলতে চাই যে সমস্ত দলের প্রার্থীরা আছেন আপনারা আপনাদের নেতা কর্মীদেরকে সাবধান করুন আর যেন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। আমি মনে করি, নির্বাচন কমিশন যে আশ্বাস দিয়েছে সে আশ্বাস যদি বহাল রাখতে পারে তাহলে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা দেখতে পারবো। প্রশাসন যদি এক মুখি আচরণ না করে, দলীয় এজেন্ডা যদি বাস্তবায়ন না করে তাহলে সুষ্ঠু সুন্দর ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন আমরা দেখতে পারবো।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা, সময় দেওয়ার জন্য রাসেল আপনাকে ধন্যবাদ।
জহুরুল ইসলাম আজিজী আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার মাঝেরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস আলীর ছেলে। তার মাতার নাম জহুরা বেগম এবং স্ত্রী মোছাম্মদ জুবাইদা। একটি কন্যা সন্তানের জনক। জহুরুল ইসলাম আজিজী দীর্ঘ সাত বছর যাবত চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতিদিয়ার ফজলুল উলুম ক্যাডেট স্কিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্ত্রী মোছাম্মদ জুবাইদা গৃহীনি। জহুরুল ইসলাম আজিজীর শিক্ষাগত দাওরায়ে হাদীস। ১৪ অক্টোবর ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন আজিজী।  তিনি ২০০৬ সালে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। এর পূর্বে তিনি দীর্ঘদিন জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা মার্কার চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী। চুয়াডাঙ্গার দুইটি আসনে যে ৬ জন প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে প্রতিন্দন্দ্বীতা করছেন এদের মধ্যে আজিজী বয়সে সবচেয়ে কনিষ্ট।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৬টি এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি অর্থাৎ ২১টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে অন্তভূক্ত রয়েছে আলমডাঙ্গা পৌরসভা ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা। এখানে মোট ভোটার ৫ লাখ ১১ হাজার ৬৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩০২ জন ও মহিলা ২ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৭ জন এবং হিজরা ৭ জন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।