স্টাফ রিপোর্টার
মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের কোট মোড়, শহীদ হাসান চত্বর, পৌরসভা মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালিতে ছাত্রশিবিরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য তুলে ধরেন।
র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি সাগর আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আসাদুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির শান্ত এবং মহসিন এমদাদুল্লাহ জামেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার অফিস সম্পাদক হাফেজ মাসুম বিল্লাহ, অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী, সাহিত্য সম্পাদক আবু রায়হান, দাওয়াত সম্পাদক পারভেজ আলমসহ জেলা শাখার অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।
শিবিরের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, দেশের শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে মেধাবী, সৎ ও দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নৈতিকতা ও আদর্শভিত্তিক শিক্ষাচর্চার মাধ্যমে আগামীর নেতৃত্ব তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে যে শিশুর জন্ম হয়েছিল, আজ সে আর কেবল যুবক নয়, সে পরিণত ও পূর্ণাঙ্গ যুবকে রূপ নিয়েছে। ১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বারবার দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে। অসংখ্য ছাত্রশিবির কর্মী শহীদ হয়েছেন। কিন্তু এত নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র করেও এই সংগঠনকে শেষ করা যায়নি, ভবিষ্যতেও কখনো শেষ করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে গণজোয়ারের সূচনা হয়েছে, তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে নতুন ইতিহাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির পর এর ফলাফল দেশবাসী নিজের চোখেই প্রত্যক্ষ করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি সাগর আহমেদ বলেন, শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি দীর্ঘ ৪৯ বছরের পথচলায় এই কাফেলা থেকে অনেক ভাইকে আওয়ামী শাসন আমলে এবং ইতিপূর্বে বিএনপি শাসন আমলে বিভিন্ন সময়ে আমাদের ভাইদেরকে হত্যা করে শহীদ করা হয়েছে। আমরা তাদের জন্য দোয়া করছি, আল্লাহ তায়ালা যেন সেসকল ভাইদেরকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে, মাত্র ছয়জন মেধাবী ও আদর্শবান ছাত্রের হাত ধরে। শুরু থেকেই এই কাফেলার লক্ষ্য ছিল দেশকে আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির কবল থেকে মুক্ত করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কোনো রাজনৈতিক দলকে তাদের প্রতিপক্ষ মনে করে না। ছাত্রশিবিরের প্রকৃত প্রতিপক্ষ হলো চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অনিয়ম ও মাদক। যারা যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিতে চায়, তারাই আমাদের আসল প্রতিপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু কেউই এই আদর্শিক আন্দোলনকে থামাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।
চুয়াডাঙ্গায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা



