স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মনোনীত প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব জনগণের কল্যাণে উন্নয়নমূলক কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি বান্ধব রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর তিনিও ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করে হাতপাখা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। এ আসনে ৩ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে মাঠে রয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে প্রতিন্দন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মনোনীত ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু (ধানের শীষ), জেলা জামায়াতের আমির ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. রুহুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও দলের জেলা শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামান সজীব (হাতপাখা)।
সংসদ নির্বাচন নিয়ে মিষ্টভাষী এ নেতা হাসানুজ্জামান সজীব নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক বিপুল আশরাফ।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা: ১. আপনার এলাকার ভোটারদের নিয়ে আপনার নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া কি?
হাসানুজ্জামান সজীব: বাংলাদেশে ৫৪ বছরের যারা ক্ষমতাতে ছিল তারা ক্ষমতায় থেকে বেশিরভাগ টাকায় লুটপাট করেছে। চুয়াডাঙ্গা ২ আসন থেকে আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে সর্বপ্রথম আমি এই লুটপাট বন্ধ করব। অনেকেই বলছে নির্বাচনে জিতলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার দরকার নেই, যে দুর্নীতি করা হয় এই দুর্নীতিটা বন্ধ করলেই অটোমেটিক্যালি সরকার থেকে অর্থনীতির একটি অংশ বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবার পাবে।
বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ, কিন্তু এই বাংলাদেশের কৃষকরা তাদের ন্যায্য মূল্য তারা পায় না। কৃষকদের যে সকল অসুবিধা আছে এই অসুবিধা গুলো যেন আমরা দূর করতে পারি। বিশেষ করে বিজ, স্যার ও কীটনাশক এগুলোর সমস্যা থাকে, এই সমস্ত যাতে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবো। কৃষকরা যে ফসল বাজারে বিক্রি করে তার ন্যায্যমূল্য তারা পায় না, কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য যেন পাই সেদিকে নজর দিব। বিগত ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা কৃষকদের নিয়ে ভাবেনি, যদি ভাবতো তাহলে এই কৃষি প্রধান দেশে বীজের সংকট হতো না। কিন্তু আমরা এ সমস্যার সমাধান করব। চুয়াডাঙ্গা জেলাকে একটি কৃষিবান্ধব জেলাতে পরিণত করব।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা: ২. নির্বাচনী আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কি?
হাসানুজ্জামান সজীব: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। আমরা আদর্শের সাথে কখনো আপোষ করি না। এইজন্য আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি সরকারি যে বিধিমালা আছে, নির্বাচন কমিশনারের যে বিধিমালা আছে, সে বিধিমালা যেন মেনে চলা হয়। অন্যান্য দলের মত ইসলামী আন্দোলন এক নয়। ইসলামী আন্দোলন এই চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৯৮৭ সাল থেকে রাজনীতি করছে। আমাদের দ্বারা এই চুয়াডাঙ্গাতে আজ পর্যন্ত কোন বিশৃঙ্খলা হয়নি। আমাদের নেতাকর্মীরা শৃঙ্খলা মেনে চলে।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা: ৩. জুলাই সনদ বিষয়ক ভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কি?
হাসানুজ্জামান সজীব: বাংলাদেশের বুকে ৫ই আগস্ট একটি ঐতিহাসিক দিন বলা যায়, যেমন ভাবে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যুদ্ধ যেমন একটি ঐতিহাসিক দিন। এই দিনটি যেন আমরা একটি লাল সবুজ পতাকা পেয়েছি। কোটা সংস্কার আন্দোলন দিয়ে আন্দোলনটি শুরু হয়েছিল, এই আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপক একটি ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশের কোন দল ব্যানার নিয়ে মাঠে ছিল না, কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছিল। আমরা চুয়াডাঙ্গাতেও মিছিল করেছি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল এতদিন ধরে যেরকম ভাবে নির্বাচন হয়েছে সেটাই পরিবর্তন করা। পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্বাচন করা। আমরা চাই পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন হোক। আমরা যদি মাদকমুক্ত সন্ত্রাসমুক্ত চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই তাহলে পিআর পদ্ধতির কোন বিকল্প নাই। জুলাই সনদের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি, এই জুলাই সনদের জন্যই গণভোট। আমরা সবাইকে হ্যাঁ ভোটে ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছি।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা: ৪. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
হাসানুজ্জামান সজীব: বাংলাদেশের মানুষ বিগত তিনটা নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এইজন্য আমরা চাই একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন বাংলাদেশের বুকে হোক। কিন্তু তারপরও আমরা আকাশের বুকে মেঘ দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না। আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো, যেহেতু হাজার হাজার মানুষের রক্ত ঝরিয়ে জুলাই পেয়েছি, বাংলাদেশের যেন একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যেন একটি নতুন বাংলাদেশ দিতে পারি।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা: ৫. নির্বাচনে জয়লাভ করলে এলাকার কি কি করতে চান?
হাসানুজ্জামান সজীব: আপনারা জানেন চুয়াডাঙ্গা ঐতিহাসিক জেলা, আমরা যদি সেই সুযোগ পাই তাহলে আমাদের এখানে ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরী করা, যেখান থেকে মেধাবী তৈরি হবে। আমাদের এখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করতে চাই, যেখান থেকে আমাদের সুচিকিৎসা হবে। আমাদের এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাই।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা: ৬. আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আপনি কি মনে করছেন?
হাসানুজ্জামান সজীব: ১২ই ফেব্রুয়ারী যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সে নির্বাচনকে মানুষের কাছে প্রশ্নবৃদ্ধ করার জন্য একটি মহল এখনো কিন্তু সক্রিয়। তারা এখনো পূর্বের ন্যায় নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এখন সচেতন, বাংলাদেশের মানুষ দিনের ভোট রাত্রে হতে দিবে না। ন্যায্য ভোট অধিকার যদি কেউ কেরে নেওয়ার চেষ্টা করে তবে তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
হাসানুজ্জামান সজীব: আজকের চুয়াডাঙ্গাকে ধন্যবাদ
হাসানুজ্জামান সজীব বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন মনোনীত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার রামনগর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। তার মাতার নাম মোসাম্মৎ হাসনা হেনা এবং স্ত্রীর নাম মোছাঃ শিউলি খাতুন। তিনি ১টি পুত্র সন্তান ও ১টি কন্যা সন্তানের জনক। হাসানুজ্জামান সজীব গোকুলখালী ডা. আফসার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন। তার স্ত্রী শিউলি খাতুল রামনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
চাকরির পাশাপাশি হাসানুজ্জামান সজীব ভূষিমাল ও বেকারির ব্যবসার সাথে রয়েছে। তিনি ১৯৭৯ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহন করেন। বিএ পাস এ রাজনৈতীক নেতা হাসানুজ্জামান সজীব ১৯৯৫ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। শুরুতে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য পদ লাভ করেন। ২০০৩ সালে ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এর পূর্বে তিনি দীর্ঘদিন প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনটি ৩টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে জীবননগর উপজেলা, দামুড়হুদা উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা সদরের ৪ টি ইউনিয়ন এবং দর্শনা পৌরসভা ও জীবননগর পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখানে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৭৪টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন ও হিজড়া রয়েছে ৪ জন।
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার দরকার নেই, দুর্নীতি বন্ধ করলেই অটোমেটিক্যালি সরকার থেকে সব পাওয়া যাবে: হাসানুজ্জামান সজীব



