আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর এলাকায় সেচ খালের ছোট কপাটের পাড় বাঁধাই সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ শুরুর তিন দিন পার হলেও ইটের গাঁথুনিতে সিমেন্ট ও বালুর কোনো কার্যকর বন্ধন তৈরি হয়নি। সামান্য চাপ দিলেই গাঁথুনি ভেঙে বালুর মতো ঝরে পড়ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে এরশাদপুর বটতলা খালের ছোট কপাটের পাড় বাঁধাইয়ের কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ইটের গাঁথুনিতে ৪:১ অনুপাতে বালি ও সিমেন্ট ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিজেরাই ৬:১ অনুপাতে মেশানোর কথা স্বীকার করেছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে ৮:১ বা তারও বেশি অনুপাতে বালি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ৭২ ঘণ্টা পার হলেও পাড়ের গাঁথুনি শক্ত হয়নি এবং একাধিক স্থানে ধসে পড়ছে। একই সঙ্গে গাঁথুনির কাজে ফিলিং বালি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সাধারণ জনগণকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট এম এ মর্জিনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
মিলন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কিছুক্ষণ আগে আমার ভাই ফোন করে জানায়, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাকে হুমকি দিচ্ছে। তাই ঘটনাস্থলে এসে দেখি সত্যিই কাজের মান অত্যন্ত খারাপ।
শরিফুল নামে আরেক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, আমি প্রতিবাদ করায় আমাকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, রাতের আঁধারে পুলিশ দিয়ে ধরে নিয়ে যাবে। এই ভয় দেখিয়েই তারা নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায় এড়িয়ে দাবি করেছে, ব্যবহৃত সিমেন্ট ভেজাল, তাই গাঁথুনি শক্ত হয়নি।
এ বিষয়ে কাজের তদারকিতে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়ার আশিকুর রহমান-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি তিন দিন আগে গিয়ে কাজ দেখেছি, তখন গাঁথুনি চলছিল। এর বেশি কিছু জানি না। এ কথা বলেই তিনি পরে কথা বলবেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। আপনাদের কাছ থেকে জেনে নোট করছি। সেখানে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—চোখের সামনে এত বড় অনিয়ম কীভাবে হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করলেই কেন হুমকি দেওয়া হচ্ছে? তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
আলমডাঙ্গার এরশাদপুর সেচ খালের কপাট সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ



