নাজমুল হক শাওন, আলমডাঙ্গা
গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যে জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য অর্জন সম্ভব—আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাম্প্রতিক অর্জন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে সারা দেশের মধ্যে সপ্তম স্থান অর্জন করেছে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চারটি ক্যাটাগরিতে সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. শারমিন আক্তার।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচির সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ডা. ফিরোজা বেগম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর ডা. সায়েদুর রহমান।
বর্তমানে বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত। এসব রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণই জীবন রক্ষার প্রধান উপায়। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় আলমডাঙ্গা উপজেলায় চালু করা হয় ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম।
এই কর্মসূচির আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের তালিকাভুক্তকরণ, নিয়মিত স্ক্রিনিং, তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, ডিজিটাল ডাটাবেজ হালনাগাদ এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের দ্রুত রেফারেল নিশ্চিত করা হয়। এসব কার্যক্রমের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ দক্ষতা ও সক্ষমতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে ডা. শারমিন আক্তার দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা-কে বলেন, ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমাদের পুরো টিম নিরলসভাবে কাজ করেছে। এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়—এটি আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও কার্যকর ও টেকসই কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি পাওয়ায় আলমডাঙ্গা উপজেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই সাফল্য শুধু একটি সম্মাননা নয়—বরং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব করার পথে একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা।
ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের গর্বিত সাফল্য



