মেহেরপুরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

মেহেরপুর অফিস
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে সংবিধান অনুযায়ী নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনুযায়ী। একই ব্যক্তি সংসদ নেতা, মন্ত্রিসভার প্রধান এবং কার্যত বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী হয়ে উঠেছেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের সামসুজ্জোহা পার্কে ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: দেশের চাবি আপনার হাতে’ শীর্ষক গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি দুপুরে মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার উদ্বোধন করেন।
এ সময় তিনি বলেন, কোন প্রধানমন্ত্রী যাতে ফ্যাসিস্ট না হতে পারে সেইজন্য গণভোটের কোন বিকল্প নেই। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী সকলকে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিগত দিনে যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর হাতেই ক্ষমতা ছিলো। তিনিই সংসদীয় নেতা, সরকার প্রধান, মন্ত্রী পরিষদ নেতা, বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন। বিচার বিভাগের উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তাঁর হাত ধরেই নিয়াগ হন প্রধান বিচারপতি ও  সংসদে আইনও পাশ করা হয়। তাঁর ইচ্ছার বাইরে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, দুদক কেউই কাজ করতে পারেনা। ফলে বার বার ফ্যাসিস্ট ফিরে আসে। এজন্য এই দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্¦ক্ষমতা দরকার।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণের কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ পুলিশ ও বিচার বিভাগ তাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে রাষ্ট্র একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। অকার্যকর রাষ্ট্র ক্ষমতার অপব্যবহার টিকিয়ে রাখতে সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ চালু করে। বিরামহীন ক্ষমতা ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের যুগল চাপে দেশের প্রধানমন্ত্রীদের একের পর এক স্বৈরাচারে পরিণত হতে দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের পরিণতি হিসেবে দেশে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি নিজেদের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ক্রমেই ভেঙে পড়ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও কল্যাণের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শিক্ষা উপবৃত্তি, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা উন্নয়ন বরাদ্দ সঠিকভাবে বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্রকে কার্যকর করতে প্রকৃত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শক্তিশালী সাংবিধানিক আদালত, স্বাধীন সংসদ এবং সমন্বিত বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত) মনির হায়দার। আরও বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. নজরুল কবীর এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এনামুল হক।
মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কতৃপক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল হাসান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনমুল কবির, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
আইটি ট্রেনিং ইএকিউবেশন সেন্টার স্থান ২য় সংশোধীত প্রকল্পের আতায় ৬৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ১০ হাজার টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে এই আইটি পার্ক।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।