চুয়াডাঙ্গার দুই সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা-১ (আসন-৭৯) ও চুয়াডাঙ্গা-২ (আসন-৮০) নির্বাচনী এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। গতকাল  বুধবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ প্রতীক বরাদ্দ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দেওয়ালে পোস্টার বা স্টিকার লাগানো নিষিদ্ধ। আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন বা কমিশনের নির্দেশনার বাইরে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ালে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে সকল প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। তবে এই প্রচারণা অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনের শর্তে পরিচালিত হতে হবে।
তিনি আরোও বলেন, আপনারা আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে আপনাদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাবেন। এই প্রচার-প্রচারণা নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে।  সেই হিসাবে  ৯ তারিখ রাত থেকে ১০ তারিখ সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে হবে, কারণ ১২ তারিখ সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে।
আমরা আশা করছি, চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তাদের প্রচারণার সময় পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলবেন।  ইতোমধ্যে জেলার চারটি উপজেলায় ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। তারা আগের মতোই সকাল, বিকাল ও রাত সব সময় মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রত্যেকটি এলাকায় নজরদারি করবেন, যেন কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন কি না তা পর্যবেক্ষণ করা যায়। যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সভা বা সমাবেশ আয়োজন করতে চান, তাহলে তা অবশ্যই রিটার্নিং অফিসারকে আগেভাগে অবহিত করতে হবে। এতে করে আমাদের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। কারণ সভা-সমাবেশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু আচরণবিধি রয়েছে। একই স্থানে বা একই সময়ে যদি একাধিক প্রার্থীর সভা-সমাবেশের পরিকল্পনা থাকে, সে ক্ষেত্রে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সঙ্গে বসে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করব, যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। আমরা চাই, এই নির্বাচনটি যেন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে। সে লক্ষ্যেই আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, মাঠপর্যায়ে কর্মরত সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাও এ বিষয়ে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া প্রার্থীরা হলেন  জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ (ধানের শীষ), দশ দলীয় জোট ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী (হাতপাখা)।
অপরদিকে চুয়াডাঙ্গা- আসনে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া প্রার্থীরা হলেন  জেলা বিএনপির সভাপতি ও  বিএনপির মনোনীত প্রার্থী  মাহমুদ হাসান খান বাবু (ধানের শীষ), জেলা জামায়াতের আমির ও ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী  মো. রুহুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব (হাতপাখা)।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহমেদ আলী জানান, মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ফলে বর্তমানে ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক-উজ-জামান, জেলা নির্বাচন কমর্কর্তা  আহমেদ আলী, সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী, হাসানুজ্জামান সজীব,  বিএনপি নেতা রেজাউল করিম মুকুট, খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, শফিকুল ইসলাম পিটু, সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মওলানা আজিজুর রহমান, দুটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের  সমর্থনকারী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা,  বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।