হেমায়েতপুরের মারুফ ও শালিক পাখির অদ্ভুত বন্ধন

সাইদুর রহমান, দামুড়হুদা
দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর গ্রামের তাহাজেল মীরের ছেলে মারুফ মীর। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি। তবে কাজের বাইরে পশু-পাখির প্রতি তার রয়েছে এক অন্যরকম টান, বিশেষ করে পাখির প্রতি গভীর ভালোবাসা।
শৈশবকাল থেকেই যেকোনো পাখি দেখলেই মারুফের মনে জাগে মায়া ও স্নেহ। পাখির সান্নিধ্যেই যেন তিনি খুঁজে পান জীবনের সত্যিকারের আনন্দ। তার এই পাখিপ্রীতি এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রায় দেড় বছর আগে বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে আহত অবস্থায় একটি শালিক পাখির বাচ্চা উদ্ধার করেন মারুফ। এরপর পরম মমতা ও যত্নে নিজ হাতে সেটিকে লালন-পালন শুরু করেন। ভালোবেসে পাখিটির নাম রাখেন ‘মিঠু’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শালিকটি হয়ে ওঠে মারুফের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী।
এখন মারুফ যেখানে যান, মিঠুও সেখানেই থাকে। কখনো কাঁধে চড়ে, কখনো পাশে বসে সে সঙ্গ দেয় কর্মস্থলে, চায়ের দোকানে, আত্মীয়ের বাড়ি কিংবা বাজারে। যেন মানুষ আর পাখির মাঝে গড়ে উঠেছে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন।
মারুফ মীর জানান, তিনি শালিকটিকে কথা শেখানোর চেষ্টা করছেন। যদিও মিঠু নিজের ইচ্ছেমতো ডাকাডাকি করে। তবে মারুফের দাবি, তিনি তার প্রিয় শালিকের ভাষা বুঝতে পারেন।
এলাকার মানুষ মারুফের এই পাখিপ্রীতিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, মানুষের সঙ্গে একটি পাখির এমন গভীর সম্পর্ক বাস্তব জীবনে খুব কমই দেখা যায়—যা অনেক সময় সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।