কুতুবপুরে চার কমিউনিটি ক্লিনিকে সাত মাস ধরে ওষুধ সংকট

কুতুবপুর প্রতিনিধি
খাদিজা বেগম (৭১) স্বামী মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। ছেলে সন্তান নেই, মেয়ের বাড়িতেই থাকেন। জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনো অসুখ হলে বাড়ির পাশের কমিউনিটি ক্লিনিকই ছিল তাঁর ভরসা। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিনামূল্যের ওষুধ পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠতেন। গতকাল রবিবার জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে তিনি আবারও কমিউনিটি ক্লিনিকে যান। তবে সেখানে দায়িত্বরত সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) তাঁকে জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই। খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে। ক্লিনিকের সামনে দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় খাদিজা বেগম বলেন, শুধু আজ না, কয়েক মাস ধরেই ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য ক্লিনিকের ওষুধই ভরসা।
একই অভিযোগ করেন শুম্ভুনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা কৃষ্ণা রানী দাস (৬০)। তিনি বলেন, বাড়ির পাশের ক্লিনিক আমাদের ভরসা। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ওষুধ পাচ্ছি না।
শিশুকে নিয়ে ক্লিনিকে আসা লিজা খাতুন (২৫) বলেন, সন্তানের কয়েকদিন ধরে জ্বর। ডাক্তার দেখালাম, কিন্তু বলছে ওষুধ নেই। ফ্রি সরকারি ওষুধ পেলে আমাদের অনেক উপকার হতো।
চুয়াডাঙ্গা সদরের কুতুবপুর ইউনিয়নের চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক ভুলটিয়া, মহাম্মদজমা, শুম্ভুনগর ও কুতুবপুর সবগুলোতেই প্রায় সাত মাস ধরে চাহিদা অনুযায়ী সরকারি ওষুধ সরবরাহ নেই। ২৭ প্রকারের বিনামূল্যের ওষুধের মধ্যে ২০ থেকে ২২ প্রকারই অনুপস্থিত থাকায় দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শুক্রবার বাদে সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ক্লিনিক খোলা থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্লিনিক দেরিতে খোলে এবং দুপুর দেড়টার পরই বন্ধ হয়ে যায়। এতে রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
শুম্ভুনগর ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রাজিব হোসেন (৩৬) বলেন, বারবার এসে শুনি—ওষুধ নেই। সত্যিই নেই, নাকি অন্য কোথাও যাচ্ছে, বুঝতে পারি না।
কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা ও কমিউনিটি ক্লিনিকের জমিদাতার ছেলে মগরব (৪৮) বলেন, ক্লিনিক চালু হওয়ার পর দরিদ্র মানুষ অনেক উপকার পেয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ওষুধ সংকট চলছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
ভুলটিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নিপা মোনালিসা বলেন, গত সাত মাস ধরে ২০ থেকে ২২ ধরনের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ওষুধ সংকট থাকলেও আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছি।
মহাম্মদজমা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মাহফুজুর রহমান বলেন, ওষুধ সংকটের কারণে বর্তমানে মূলত স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে।
এই বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর যুবদলের সদস্য আবু আসলাম সোহাগ বলেন, ইউনিয়নের চারটি ক্লিনিকে ১৯ গ্রামের মানুষ সেবা পায়। ৫ আগস্টের পর থেকে মাত্র একবার ওষুধ সরবরাহ হয়েছে। এতে সংকট তীব্র হয়েছে।
এ বিষয়ে কুতুবপুর কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে আসা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক বকুল হোসেন বলেন, সাত মাস ধরে ওষুধ সংকট রয়েছে। প্রতি মাসেই চাহিদা পাঠানো হচ্ছে, তবে স্বল্প পরিসরে সরবরাহ আসছে। এতে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। আশা করছি, খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।