তুচ্ছ ঘটনার জেরে দর্শনায় সংঘর্ষে পাঁচজন আহত

দর্শনা অফিস
দর্শনায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে দর্শনা রেলবাজার মালিক সমিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশি হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। এতে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে দর্শনা রেল  বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন দর্শনা পুরাতন বাজারের মৃত গনি মিয়ার ছেলে মাংস ব্যবসায়ী কালু মিয়া (৩৫), আজমপুর এলাকার মৃত বাবু মিয়ার ছেলে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের হেলপার আসলাম উদ্দিন(৩০) একই মহল্লার দর্শনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সুপারভাইজার জাকির হোসেন (৪৬) রেল বাজার দোকান মালিক সমিতির সদস্য শরীফসহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দর্শনা-মুজিবনগর সড়কের মনোরঞ্জন মার্কেটের সামনে একটি পরিবহন বাস ঘোরানোর সময় রাস্তার ওপর ভ্যান সরানো নিয়ে পরিবহন হেলপার আসলাম হোসেনের সঙ্গে রেল বাজারের এক কসাই দোকানের কর্মচারী সুজনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ালে আসলাম মারধরের শিকার হন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ ঘটনার জেরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুপুরের পর মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও রেল বাজার দোকান মালিক সমিতির উদ্যোগে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকাল ৩টার দিকে রেল বাজার দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সমাধানের পরিবর্তে বৈঠক চলাকালেই এক পর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যে চেয়ার তুলে মারামারি শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কার্যালয় থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে মোটর শ্রমিক পক্ষের কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দর্শনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর রেল বাজার দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা হলে রেল বাজারের সব দোকান বন্ধ রেখে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন।
এদিকে স্থানীয়ভাবে দর্শনার কিছু কসাই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ক্রেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অসুস্থ ও গর্ভবতী গরু জবাইসহ বিভিন্ন অনিয়ম।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকে পৃথক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।