স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘদিনের বিভক্তি কাটিয়ে অবশেষে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির দ্বিধাবিভক্ত দুই গ্রুপ। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বাধীন দুই ধারার নেতা-কর্মীরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই- আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করা।
গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বৈঠকের পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় আলমডাঙ্গার লায়লা কনভেনশন সেন্টারে দুই গ্রুপের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। সভায় আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘৫ আগস্ট না হলে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে এমন কর্মসূচি করতে পারতাম না। নির্ভয়ে চলাফেরা করার সুযোগ ছিল না। আজ সেই ভয়ের পরিবেশ নেই- এটাই আমাদের বড় অর্জন।’
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী মত দমনে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেক সময় সেই সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারিনি। এখন সময় এসেছে সেই চর্চা পরিহার করার।’ ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের উদ্দেশে শরীফ বলেন, ‘আজ এখানে কোনো গ্রুপ নেই। শরীফুজ্জামান শরীফ গ্রুপ বা অন্য কোনো গ্রুপ- এসব আপনারাই আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। তিনি স্বীকার করেন, অতীতে গঠিত কিছু কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তখন ভয়ের কারণে অনেক যোগ্য নেতা সামনে আসতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হলে আমাদের নিজেদের ভেতরের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত মতভেদ, ক্ষুদ্র স্বার্থ বা অতীতের ভুল বোঝাবুঝি সামনে রেখে নয়- দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও দেশের মানুষের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আমাদের এগোতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শহিদুল কাউনাইন টিলু বলেন, আজ আমাদের ভেতরে আর কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা সবাই একই আদর্শের সৈনিক। সামনে আমাদের একটাই লক্ষ্য আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, সিনিয়র সহসভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিম, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাড. শাহজাহান মুকুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউর করিম মুকুট, জেলা আইনজীবী ফোরামের আহ্বয়ক অ্যাড. আ স ম আব্দুর রউফ, চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ও জেলা জজকোর্টের পিপি অ্যাড. মারুফ সারোয়ার বাবু, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদউর রহমান মাসুদ।
জেলা যুবদল নেতা মাগরিবুর রহমান মাগরীবের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইলহাঁস ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তোজ্জামেল হক মাস্টার, জামজামি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা লিয়াকত আলী, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা বিল্লাল হোসেন, হারদী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা নাসির উদ্দিন, ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সণ্টু মিয়া, বেলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুল মজিদ, সাবেক চেয়ারম্যান চান্দ আলী, ডাউকী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুল হান্নান, গাংনী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মামুনুর রশীদ মামুন, কালিদাসপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ময়নয়উদ্দিন, আব্দুর রহিত, খাসকররা বিএনপির নেতা নওশদ মাস্টার, চিৎলা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুল হালিম, নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুর রশিদ হ্যাবা, যুবদল নেতা সুন্নত আলী, জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন হাবলু, শফিকুল হক সালাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মীর উজ্জ্বল, সদর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মহলদার ইমরান রিণ্টু, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি কৌশিক কাউনাইন রুবেল, আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাজু, আলমডাঙ্গা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাকারিয়া হোসেন শান্ত প্রমুখ। এর আগে সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন বাড়াদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ।
সভায় আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকরা বক্তব্য দেন। তৃণমূলের নেতারা তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক পরামর্শ তুলে ধরেন। মনোযোগ দিয়ে সেসব বক্তব্য শোনেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। দীর্ঘদিনের বিভক্তি কাটিয়ে এই সভাকে আলমডাঙ্গা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন নেতা-কর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা- এই ঐক্য আগামী দিনের রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আলমডাঙ্গায় বিএনপির দুই গ্রুপের সাথে মতবিনিময় সভায় শরীফুজ্জামান শরীফ



