স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক শৃঙ্খলা, আত্নহত্যা প্রবনতা হ্রাস, মাদক প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। স্থানীয় সমস্যাগুলো সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করে বাস্তবসম্মত সমাধান করার লক্ষ্যে আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, জেলায় সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। অন্যান্য মাসের তুলনায় গত নভেম্বরে অপরাধের সংখ্যা তুলনামূলক একটু কম। তবে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে যৌথ টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় গত মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পেশ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামান। তিনি জানান, নভেম্বর মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক ১০টি মোবাইল কোর্টে ১৯জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বমোট ১৫টি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক ১১টি অভিযানের ১৫টি মামলায় ৯২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পুলিশ বিভাগ কর্তৃক সড়ক পরিবহন আইনে ৭৮ টি অভিযানে ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা। জেলায় ইউএনও, এসিল্যান্ড এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা নভেম্বর মাসে ৫৯টি মোবাইল কোর্টে ১৬৫ টি মামলায় ৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৬১০ টাকা জরিমানা এবং ২১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অপরাধ দমন ও সামাজিক ব্যাধি রোধে প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। জেলার তামাক চাষীদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে হবে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলায় আত্মহত্যা প্রবণতা খুব বেশি বেড়েছে। আত্মহত্যা প্রবণতা কমাতে জনসচেতনতা খুবই জরুরী। তিনি আরও বলেন, মাদক, বাল্যবিয়ে ও আত্মহত্যা এই তিনটি সামাজিক ব্যাধি দূর করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে আলোচনা ও উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক ও গণআলোচনার মাধ্যমেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলায় আত্মহত্যা প্রবণতা তুলনামূলক হারে বেড়েছে। মানুষের জীবনের আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। মসজিদ, মন্দিরে উপাসনার সময় মোটিভেশনাল বক্তব্য প্রদান করতে হবে। এতে করে সমাজে আত্মহত্যা প্রবণতা কমতে পারে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক সকল দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আওলিয়ার রহমান, পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ সরোয়ার বাবু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামীম রেজা ডালিম, শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি এম জেনারেল। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু, জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার সোনা, ছাত্রনেতা আসলাম হোসেন অর্ক, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, প্রথম আলো জেলা প্রতিনিধি শাহআলম সনি প্রমুখ।
চুয়ডাঙ্গায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন



