আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার মাজু গ্রামের এক গর্বিত সন্তান ড. মো. আবুল কালাম আজাদ। প্রয়াত আব্দুল জব্বার বিশ্বাস ও প্রয়াত শাহিদা খাতুন এর সন্তান। সাত ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট আজাদ। কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়াই তিনি পরিবারিক মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনাকে ধারণ করে বড় হয়েছেন, যা তাকে শিক্ষা, গবেষণা ও গ্রামীণ উন্নয়নে আজীবন নিবেদিত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আবুল কালাম এসএসসি- গোস্বামী দুর্গাপুর হাইস্কুল, এইসএসসি- আলমডাঙ্গা কলেজ, ব্যাচেলর অফ বিজনেস স্টাডিজ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মাস্টার অফ বিজনেস স্টাডিজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, গইঅ – সিটি ইউনিভার্সিটি, বনানী ঢাকা।
তিনি অস্ট্রেলিয়ার পার্থ-এর কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রফেসর ডঃ ডোরা ম্যারিনোভার তত্ত্বাবধানে এম ফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৫। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল: “বাংলাদেশের তীর্থস্থান পর্যটন: একটি টেকসই উন্নয়ন কাঠামো”, যেখানে তিনি তীর্থস্থানভিত্তিক পর্যটন/ভ্রমণের অর্থনৈতিক, সামাজিক, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও পরিবেশগত দিকগুলো বিশদভাবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং তা বৈশ্বিক টেকসই পর্যটন আলোচনার সাথে যুক্ত করেছেন।
ড. আবুল কালাম আজাদ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রবন্ধের মাধ্যমে একাডেমিক জগতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাগুলো যা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে : “গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম: টেকসই উন্নয়নের কৌশল—মাজু গ্রামের একটি কেস স্টাডি”, যেখানে নারীদের অর্থনৈতিক ভূমিকা ও গ্রামীণ উন্নয়নে তাদের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে । “বাংলাদেশে গ্রামীণ শিশুদের ইংরেজি শিক্ষার রূপান্তর: সরকারি সহায়তার ভূমিকা” যেখানে ইংরেজি শিক্ষাকে শক্তিশালী ক্ষমতায়নের উপায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। “বাংলাদেশের বাউল ঐতিহ্য: নিরামিষভিত্তিক খাদ্যসংস্কৃতির টেকসই আন্দোলন”, যেখানে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও টেকসই জীবনধারাকে সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নিজ গ্রামের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই ড. আজাদ বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, বয়স্ক, দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও সামাজ-সংস্কৃতির উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর চলমান গবেষণা “টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি নির্মাণ: মাজু গ্রামের অভিজ্ঞতা” এই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। ২০১৫সাল থেকে তিনি নিজ গ্রামের মানুষদের উন্নয়নে কাজ করছেন । একটি অলাভজনক সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে, যা শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ড. ডোরা ম্যারিনোভা’র সাথে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা তাঁর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদানকে আরও শক্তিশালী করছে। তার এই সাফল্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের মাজু গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আলমডাঙ্গার মাজু গ্রামের সন্তান ড. মো. আবুল কালাম আজাদের টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অবদান



