স্টাফ রিপোর্টার
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ মুসলমানের জন্য শুধু কিছু আনুষ্ঠানিক আমল বা ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে ঈমান ও আকিদাহ, ইবাদত, প্রাত্যহিক জীবন, সালাত, সিয়াম পরিবার, সমাজ, মানুষের সঙ্গে আচরণ ও লেনদেন, দায়িত্ব পালন ও সর্বোপরি প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ করা প্রয়োজন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহে আল হেরা ইসলামিক সেন্টার মিলনায়তনে জামায়াতের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের জেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের বিশেষ অতিথি হিসেবে ‘সুন্নাতে রাসূলের আলোকে জীবন গঠন’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, সুন্নাহভিত্তিক জীবন গঠনের ক্ষেত্রে আত্মশুদ্ধি ও উন্নত চরিত্র গঠন গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্য, বিনয়, ক্ষমাশীলতা ও মানুষের প্রতি সদাচরণ রাসূল (সা.)-এর জীবনাদর্শের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এসব গুণ নিজেদের জীবনে ধারণ করার পাশাপাশি তাদের অধীনস্থ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। একজন মুসলমানের জীবনকে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে পরিচালিত করতে হলে নিয়মিত আত্মসমালোচনা ও আত্মসংশোধনের চর্চা করতে হবে। নিজের কথা, কাজ ও আচরণ কতটুকু ইসলামী আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাসূল (সা.)-এর জীবন থেকে দায়িত্বশীলতা, মানুষের অধিকার রক্ষা, অসহায় ও দুর্বল মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং ন্যায়বিচারের শিক্ষা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সুন্নাহর অনুসরণের বিকল্প নেই। একজন দায়িত্বশীলদের চরিত্র ও আমল সুন্নাতে রাসূলের আলোকে অনুসৃত হবে। তাই দায়িত্বশীলদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নিজেদের চরিত্র, আমল ও আচরণকে উন্নত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। রাসূল (সা.)-এর জীবনকে অনুসরণ করে দায়িত্বশীলতা, পরামর্শ, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিক্ষা শিবিরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসাইন। তিনি শিক্ষা শিবিরের মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের জ্ঞান, আমল, চরিত্র ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইসলামী আদর্শের আলোকে ব্যক্তিগত জীবন গঠন এবং দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
শিক্ষা শিবিরে দারসে কুরআন পেশ করেন মুফতি আমীর হামযা এমপি। নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল সহকারী পরিচালক আবু সাদিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুল মতিন, কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যাপক আলী মহসিন, ঝিনাইদহ জেলা আমীর আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর এমপিসহ দায়িত্বশীলবৃন্দ।
ঝিনাইদহে জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের উদ্ধোধন



