জীবননগরে জামিনে ফিরে ছোট খোকার বিরুদ্ধে ফের মাদক বিক্রিসহ স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ

তারিকুর রহমান, জীবননগর
জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের বকুন্ডিয়া গ্রামে রফিকুল ইসলাম ওরফে ছোট খোকার (৪৫) বিরুদ্ধে ফের মাদকদ্রব্য বিক্রি, অসামাজিক কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কর্মকাণ্ডে এলাকায় উদ্বেগ ও অসন্তোষ রয়েছে। এর আগে একটি ঘটনায় তাঁকে পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পর তিনি ফের মাদক বিক্রি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বকুন্ডিয়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা নুর বকস (৭২) অভিযোগ করে বলেন, রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে গ্রামের পিয়াস হোসেনের বাড়িতে তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে রফিকুল ইসলাম প্রবেশ করেন। পরে তিনি পিয়াস হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খাতুনের কক্ষে প্রবেশ করলে রুবিনার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় ঘরের দরজা খুলে তাঁরা রফিকুল ইসলাম ও রুবিনা খাতুনকে দেখতে পান।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উপস্থিত লোকজন রফিকুল ইসলামকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে শাহিন রেজা, মিজানুর রহমান, তবিবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, আক্তার হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও শাহাবুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগকারীরা জানান।
সালিশে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় পরে রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের হাসাদহ পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাঁদের আদালতে পাঠায়। রফিকুল ইসলাম আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পর ঘটনার প্রতিবাদকারী স্থানীয় যুবকসহ অন্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া একই গ্রামের শাহাবুল হোসেনের স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে ও রাস্তাঘাটে বিভিন্নভাবে বিরক্ত ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগও রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এতে ওই পরিবারেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ও শাহিন রেজা অভিযোগ করে বলেন, রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, তাঁর কর্মকাণ্ডে এলাকার যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে মাদক বিক্রি ও পরবর্তী সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ওরফে ছোট খোকা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার দিন তিনি পিয়াসদের বাড়িতে বিশেষ কাজে গিয়েছিলেন। গ্রামের কিছু যুবক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে আটক করে মারধর করে এবং তাঁর মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা কেড়ে নেয় বলে দাবি করেন তিনি।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।