চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ও বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উদযাপন দেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ও বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’ এবং বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার। সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার শিশু বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত, যা তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম শুধু শিক্ষার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং দেশের টেকসই উন্নয়নেও বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করেন। ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ তামাক সেবন করেন। এর মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ ধূমপান করেন এবং ২০ দশমিক ৬ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। এছাড়া ৩৯% বা ৪ কোটি ৮ লাখ অধূমপায়ী পাবলিক প্লেসে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শারমিন আক্তার বলেন, একটি শিশুর শৈশব কখনোই শ্রমের ভার বহন করতে পারে না। শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ এবং শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের বহুমুখী ক্ষতি সম্পর্কে শিশু-কিশোর, তরুণ এবং অভিভাবকদের আরও সচেতন করতে হবে। তিনি বলেন, তামাকমুক্ত সমাজ গঠন এবং শিশুশ্রম নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণই পারে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল, টিটিসির অধ্যক্ষ মোছাবেরুজ্জামান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।