মো: নিশান মিয়া :
তিতুদহ প্রতিনিধি :
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের খাসপাড়া গ্রামে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে ব্যক্তিগত জায়গায় পাঁচিল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে জেলা পরিষদ থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ এনে ব্যক্তিগত জায়গায় পাঁচিল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর কাজ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আনিসা খাতুন।
সরেজমিনে দেখা যায়, খাসপাড়া সরকারবাড়ীর মোড় সংলগ্ন এলাকায় খাসপাড়া আদর্শ হাফেজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে অন্য স্থানে থাকলেও জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পরে সাহাজান আলী তার নিজস্ব জায়গায় স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সেখানে কয়েকটি বেঞ্চ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামো নেই। পরিদর্শনের সময় কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা পাঠদান কার্যক্রমও দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে সাহাজান আলী দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির নামে জেলা পরিষদ থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ এনে ব্যক্তিগত জায়গায় পাঁচিল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসা ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকা থেকে চাল ও অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। অতীতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে সাহাজান আলী বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাহাজান আলী। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আনিসা খাতুন বলেন, গ্রামের একজন বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। প্রকল্পগুলোর এস্টিমেট অনেক আগে করা হয়েছিল, সে অনুযায়ী বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



