চুয়াডাঙ্গার সাতগাড়ীতে মাদকবিরোধী সমাবেশে পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান

স্টাফ রিপোর্টার
“মাদককে না বলি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার সাতগাড়ী মোড়ে মাদকের ভয়াবহতা ও কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এক মাদকবিরোধী যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সাতগাড়ি গ্রামবাসী ও সদর থানার যৌথ  আয়োজনে সাতগাড়ি জামে মসজিদের পাশে ঈদগাহ মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাতগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দীন সভায় সভাপতিত্ব করেন।
মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। তিনি বলেন মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স, পুলিশের জিরো টলারেন্স। তবে প্রশাসন একা কিছু করতে পারবে না, আপনাদের সকলের সহযোগিতাই পারে মাদক নির্মূলে মূল ভূমিকা রাখতে। চুয়াডাঙ্গাতে বড় কোনো মাদককারবারি শান্তিতে বাড়িতে এখন ঘুমাতে পারে না। এদের জন্য উপযুক্ত জায়গা হলো এখন জঙ্গল। আমরা জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে খুব তৎপর। মোবাইল কোর্ট থেকে শুরু করে আমাদের সকল অভিযান চলছে এবং চলবে।


পুলিশ সুপার আরও বলেন, এখন তো বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে। বিশ্বকাপ শেষ হলে পুরো জেলায় মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হবে। সেখানে জেলা পুলিশ বনাম যুবসমাজের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। সকল দল-মত নির্বিশেষে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করব। দল যার যার, মাদকবিরোধী আন্দোলন সবার।
সাতগাড়ি মাদকবিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোলায়মান হকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, যেখানে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং তাসের ঘর, সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে। মাদক এবং অনলাইন জুয়া আমাদের প্রতিটা পরিবারকেই শেষ করে দিচ্ছে। আমরা প্রায়ই ছেলে-মেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এবং মাদকের টাকা না দেওয়ায় পিতা-মাতার ওপর অত্যাচারের কথা শুনছি। আমাদের প্রতিটি এলাকায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। আপনারাই আমাদের শক্তি। এই সাতগাড়ি এলাকাকে আমরা মাদকমুক্ত করব ইনশাল্লাহ।
সিআরপিসি ৭৯ ধারা অনুযায়ী, সাধারণ জনগণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাহায্য করতে পারবে। সেই সহযোগিতা আপনাদের কাছ থেকে পাচ্ছি। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন সুনাগরিকের দেশের আইন মেনে চলা একটি কর্তব্য। আপনারা যখন মাদককারবারিকে ধরবেন, তখন কোনো প্রকার আইনবিরোধী কাজ করবেন না। আপনারা তাকে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে দেবেন। কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে যদি আপনারা মাদককারবারির সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে তথ্য পান, সরাসরি আমাদের সেই তথ্য দিন। যেকোনো বিষয়ে কোনো সাহায্যের দরকার পড়লে আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করব।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আমরা কখনই মাদককে প্রশ্রয় দেব না। যারা মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় সোপর্দ করা হবে। আমাদের সন্তানদেরকে মাদকাসক্তি বিষয়ে সতর্ক করতে হবে। সন্তানদের বিষয়ে খোঁজখবর না নিলে একটি পরিবার ধ্বংসের পথে চলে যাবে। তাই সন্তানদের খোঁজ নিতে হবে, তারা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে। অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে মাদক নির্মূলে বড় ভূমিকা রাখতে। এছাড়া অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সাতগাড়ি মাদকবিরোধী কমিটির সভাপতি বজলুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহির উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ খাজের আহমেদ, প্রচার সম্পাদক কবির হোসেন প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিআই এডমিন আমিরুল ইসলাম, সমাজ সেবক আবু বক্কর, মজনুল হক পচাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।