বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের দায়ে আলমডাঙ্গার বেলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ব্যাহত জনসেবা

আলমডাঙ্গা অফিস
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বকেয়া বিলের কারণে বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি| প্রায় এক বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গত ১৮ জুন পরিষদের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়| এর ফলে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ|
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল| এ বকেয়া পরিশোধের জন্য ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের সভায় প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদন করা হয়| পরবর্তীতে ওই অর্থ ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মেহেরাজ হোসেনের কাছে দেওয়া হলেও তা নির্ধারিত সময়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে| ফলে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বাধ্য হয়ে পরিষদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে|
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে| প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষকে হয় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, নয়তো খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে| এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে|
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে| দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেহেরাজ হোসেন বলেন, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের কার্যক্রম চলছে| আজকের মধ্যেই বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালুর চেষ্টা করছি|
এদিকে আলমডাঙ্গা জোনাল অফিসের ডিজিএম বিজল কুমার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মোট বকেয়া বিল ছিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা| এর মধ্যে রবিবার ৭২ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে| সোমবার সকালে আরও ২০ হাজার টাকা পরিশোধের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ| তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের বিধান নেই| তবে ইউনিয়ন পরিষদের জনসেবামূলক কার্যক্রমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে আগামীকাল সংযোগ পুনরায় চালু করা হবে|
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে| তাদের দাবি, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য অনুমোদিত অর্থ সময়মতো জমা না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হোক এবং এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।