স্টাফ রিপোর্টার
নাচ-গান করার অপরাধে চুয়াডাঙ্গায় সুবর্ণা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন স্থানীয়রা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই নারীর মরদেহ জেলা শহরের দৌলতদিয়াড়ের ভাড়া বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে তাঁর দাফন কাজে বাধা দেয় এলাকাবাসী। এর আগে গত বুধবার রাতে ঝিনাইদহ জেলা শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই নারী সুবর্না আক্তার। সেখানে স্বামীর সাথে বসবাস করতেন তিনি। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে তাকে চুয়াডাঙ্গার শহরের দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে নেয়া হলে, সেখানে তাঁর মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায়, সুবর্ণা ছোট থেকেই নাচ-গান করে বেড়াতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতে যেত। সে টিকটকে অশ্লীল নাচানাচি করতো। তাছাড়া তারা এখানকার স্থানীয় না। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় ভাড়ায় আসে। সুবর্না আক্তারের দাফন তার বাবা অথবা স্বামীর গ্রামে দেয়ার জন্য দাবী জানান স্থানীয়রা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের (৩৫) বিয়ে হয় চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের কুলচারা ক্যানাল পাড়ার কাউসারের ছেলে তুহিনের সঙ্গে। সংসারে পরপর দুই মেয়ে এক ছেলে জন্ম নেয়। সংসারে দাম্পত্য কলহের জেরে গত ৬ বছর আগে স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেলের সঙ্গে বিয়ে করে সুবর্ণা। সুবর্ণার পরিবারের লোকজনের দাবি স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয় আসাদুজ্জামান নামে একজন বলেন, ‘মেয়েটির আচার ব্যবহার চরিত্র ভালো না। এলাকার লোকজন তাকে আমাদের কবরস্থানে দাফন দিতে আপত্তি জানিয়েছেন। কারণ সে অসামাজিক কাজ করতো। তার বাবা কিংবা স্বামীর বাড়িতে দাফন করুক। এটি এলাকাবাসী চায়। মিনারুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের এলাকাবাসীর কবরস্থান। সে আমাদের কবরস্থানের সদস্য না। এর আগে সদস্য হওয়ার কথা বললেও তারা অগ্রাহ্য করেন। তাই আমরা তাকে এখানে দাফন করতে দেব না।
একই এলাকার আকাশ হোসেন বলেন, সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় অস্বাভাবিক কাজ করে, যেটি এই সমাজ মেনে নেয় না। ফেসবুক টিকটকে অশ্লীল ভিডিও করে। এছাড়াও অসামাজিক নাচ গানের কারণে তার দাফন করতে দেয়া হবে না।
মৃত সুবর্না আক্তারের সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যু হয়, তখন দাফনে বাধা দেয়া হয়নি। কিন্তু এখন সুবর্নার মরদেহ দাফনে বাধা দেয়া হচ্ছে। কবর খুঁড়তে দেয়া হচ্ছে না। আমরা চিন্তা করছি অন্য কোথাও দাফন করার। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ঝিনাইদহে আত্মহত্যা করা চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড়ের সুবর্ণার লাশ দাফনে এলাকাবাসির বাধা



