স্টাফ রিপোর্টার
দেড় মাস পর চুয়াডাঙ্গায় স্বাভাবিক হতে চলেছে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখন আর আগের মতো উপচে পড়া ভিড় নেই। পাম্পে গেলেই গ্রাহকরা খুব সহজে এবং কোনো ঝামেলা ছাড়াই চাহিদামতো পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন। খুলে ফেলা হয়েছে পাম্পের নিরাপত্তা বেষ্টিত বাসের বেড়া। আবারো আগের মত, সেই চিরচেনা রূপে ফিরেছে ফিলিংস্টেশনগুলো।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে তেলের জন্য শত শত মোটরসাইকেল ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যেত, আজ সেখানে ভিন্ন চিত্র। পাম্প কর্তৃপক্ষরা বলছেন গত দুইদিন থেকেই পাম্পে আর কোন ভিড় নেই। শহরের প্রবেশপথের পাম্পগুলোতে এখন আর যানজট সৃষ্টি হচ্ছে না। আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে তেল না পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন, কিন্তু এখন পাম্পের নজলগুলো অলস সময় পার করছে গ্রাহকের অপেক্ষায়।
চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র রেলবাজারে অবস্থিত মোজাম্মেল হক পেট্রোল পাম্প এবং বাস টার্মিনাল সংলগ্ন জোয়ার্দার পেট্রোলিয়াম ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পগুলোতে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও পাম্পগুলোতে তেল কেনার মত গ্রাহক চোখে পড়ছে না। গ্রাহকের অপেক্ষায় পাম্প কর্তৃপক্ষের অলস সময় পার করছেন। মাত্র দুই/তিন দিনের ব্যবধানে পেট্রোল প্যাম্পগুলো গ্রাহক শূণ্য হয়ে পড়েছে।
পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক আকরাম হোসেন হোসেন, আগে তেলের জন্য এসে ১-২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা লাগত। আজ আসলাম আর দুই মিনিটের মধ্যেই মোটরসাইকেলের ট্যাংকি ভর্তি করে নিলাম। কোনো হুড়োহুড়ি নেই আগের মত সেই লাইনও নেই। এমন ফাঁকা পাম্প দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। তবে লাইন ছাড়া তেল নিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
চুয়াডাঙ্গার মোজাম্মেল হক পেট্রোল পাম্পের সহকারী ম্যানেজার আশাবুল হক বলেন, গতকালকে পাম্পে সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল, সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৩ হাজার লিটার অকটেন তেল এসেছিল। এখনো বর্তমানে পাম্পে অনেক তেল মজুদ আছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে এই আশঙ্কায় অনেকেই তেল বাড়িতে মজুদ করেছেন যে কারণে বর্তমানে পাম্পে কোন গ্রাহক নেই। এখন তেল সরবরাহ অনেক সহজলভ্য হয়ে গেছে। ডিপো থেকেও এখন নিয়মিত তেল দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এখন তেলের কোন সংকট নেই।
মেসার্স জোয়ার্দার পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন জানান, গত পরশু পাম্পে ৬ হাজার লিটার ডিজেল ও ৩ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়েছিল। এখনো পর্যন্ত সেই তেল শেষ হয়নি। যা তেল আছে আরো একদিন চলবে বলে মনে করছি। বর্তমানে পাম্পে কোন গ্রাহক নেই। আগে যে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে পাম্প ঘিরে রেখেছিলাম সেগুলোও খুলে দিয়েছি। অনেকক্ষণ পর পর দুই একজন গ্রাহক আসছে তাদের তেল দেওয়ার জন্যই কর্মচারীরা বসে আছেন।
চুয়াডাঙ্গার পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি ও লাইন বিলুপ্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে। তবে এখনো অনেক গ্রাহকরা ফুয়েল কার্ড সাথে নিয়েই পাম্পে যাচ্ছেন তেল সংগ্রহে। তেলের লাইন না থাকলেও তেল নিতে যে ভোগান্তি পোহাতে হত তেমন একটি ভয় গ্রাহকদের মাঝে রয়েই গেছে। তবে যারাই পাম্পে আসছেন তারাই লাইন বিহীনভাবে তেল নিচ্ছেন বলে জানালেন পাম্প কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আজ মঙ্গলবার জেলার ৪ উপজেলায় ৯০ হাজার লিটার ডিজেল, ৪১ হাজার ৫শ লিটার পেট্রোল ও সাড়ে ৯ হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ করা হবে বলে জেলা প্রশাসন জানায়।
চুয়াডাঙ্গার পেট্রোল পাম্পগুলোতে আগের মত নেই লম্বা লাইন স্বাভাবিক হয়েছে জ্বালানি সরবরাহ, খুলে ফেলা হয়েছে বাঁশের রেলিং



