আলমডাঙ্গায় তেল সংকট: ১২ হাজার ফুয়েল কার্ডেও হয়নি স্বস্তি

খন্দকার শাহ আলম মন্টু, আলমডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় তেল সংকট ও দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১২ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে এ উদ্যোগের পরও কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফিরেনি বলে অভিযোগ তুলেছেন কৃষক, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ গ্রাহকেরা।
উপজেলার উত্তরা, হক ও এনামুল ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকেই তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। আগে যেখানে তুলনামূলক সহজে তেল পাওয়া যেত, বর্তমানে সীমিত সরবরাহের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না।
স্থানীয়রা জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে দিনের বড় একটি সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি আয়-রোজগারেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রমের জন্য ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে পারছেন না তারা। অনেক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লিটার পর্যন্ত তেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে কৃষিকাজ চালানো সম্ভব নয়। এতে ধান ও ভুট্টা আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ট্রাক ও পিকআপ চালকেরা জানান, পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় নিয়মিত ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আগে যেখানে সপ্তাহে ৬-৭ দিন গাড়ি চালানো যেত, এখন তা নেমে এসেছে ১-২ দিনে। ফলে আয়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
হক ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, আগে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হতো তা বিক্রি করতে ২-৩ দিন সময় লাগত। বর্তমানে একই পরিমাণ তেল ১-২ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
উত্তরা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক বলেন, তেলের আনুষ্ঠানিক ঘাটতি নেই দাবি করা হলেও বাস্তবে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুদ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ১২ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মূলত মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এ কার্ড চালু করা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সুশৃঙ্খলভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া পুলিশ, প্রশাসন, সাংবাদিক ও জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা কৃষক ও বড় যানবাহনের চালকদের জন্য কার্যকর সমাধান আনতে পারেনি। সীমিত বরাদ্দ ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে সংকট এখনো কাটেনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেলের সরবরাহ বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত মজুদ বা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।