কার্পাসডাঙ্গায় কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ তম জন্ম বার্ষিকীর সমাপনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

রাজু আহমেদ, কার্পাসডাঙ্গা
দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের গতকাল সোমবার ছিলো সমাপনী দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী এ্যাড. আসাদুজ্জামান এমপি।
এ উপলক্ষে সোমবার বিকালে কবির স্মৃতি বিজড়িত কার্পাসডাঙ্গার  আটচালা ঘর সংলগ্ন মিশনারী মাঠ প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায়  বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার  রুহুল কবীর খান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাজাহান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তার,  জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ , দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তনু প্রমুখ।  আলোচনা সভার পূর্বে আটচালা ঘর সংলগ্ন কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে মন্ত্রী  কবির আটচালা ঘর ঘুরে দেখেন।


নজরুল জয়ন্তী সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আমি শুনেছি ইতোপূর্বে এখানে এমন অনুষ্ঠান হয়নি। আমরা কবি নজরুল ইসলামের অনুসারী। আমরা কবি নজরুল ইসলামের ভক্ত। কবি নজরুল আমাদের সম্পদ, বাংলা সাহিত্যের সম্পদ, বাংলাদেশের সম্পদ। এই নজরুল কে ভুলে থাকাটা কত কষ্টের, কত বেদনার সেটা যদি আমরা বুঝতাম তাহলে এভাবে বিগত বছরগুলোতে নজরুল কে নিয়ে এত অবহেলা এত অবজ্ঞা আমাদের সইতে হতো না। নজরুল ইসলাম আমাদের কাছে চেতনার নাম। যদি বিদ্রোহী কবিতার কথা বলি তাহলে নজরুল ভেসে ওঠে। যদি অনবদ্য কবিতার কথা বলি, প্রেমের কথা বলি তাহলে নজরুল ভেসে ওঠে। যদি বিরহের কথা বলি, সাম্যের কথা বলি তাহলেও নজরুল সামনে আসে। নজরুল মানেই আমাদের রক্তে নাচন ধরানো, রক্তে আগুন লাগানো। নজরুলকে উপস্থাপন করতে গিয়ে আমরা কখনোই রবীন্দ্রনাথকে ছোট করে দেখি না। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল একে অন্যের এতটাই পরিপূরক ছিলেন।
নজরুল ইসলাম ১৯২৬ সালের মে মাসে কার্পাসডাঙ্গায় এসেছিলেন। তার জীবনের কিছু মূল্যবান সময় তিনি এখানে কাটিয়ে গেছেন। ১৯২৬ সালের নভেম্বর মাসে এই উপমহাদেশে তিনি নির্বাচন করতে এসেছিলেন। উনি তৎকালীন ভারতীয় আইনসভার সংসদ সদস্য হিসেবে স্বরাজ পার্টির পক্ষ থেকে ঢাকা ফরিদপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বিশ্বাসঘাতকদের বিশ্বাসঘাতকতায় নজরুল সেদিন পরাজিত হয়েছিলেন এবং রাজনীতি থেকে বিমুখ হয়েছিলেন।
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন তার সবকিছুর পিছনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের অবদান আছে। আপনি যদি মুক্তিযোদ্ধার দিকে তাকান, যার মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ গঠিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল সেদিন রাখাল রাজা খ্যাত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে যখন রাজনৈতিক নেতারা দেশে ফিরেছিলেন তখন দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর খন্দকার মোস্তাক আহমেদ আওয়ামী লীগের উত্তরসূরী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। পরে ১৯৭৮ সালে দেশের হাল ধরেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
এছাড়াও কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আরও উপস্থিত হন দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসনাত, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, দর্শনা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ আলী, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মন্টু মিয়া এবং দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আবুল হাসেম।
নজরুল স্মৃতিরূপী কার্পাসডাঙ্গার এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে তিন দিন ধরে চলা নান্দনিক, সাংস্কৃতিক ও আলোচনা ভিত্তিক এই উৎসবমুখর আয়োজন গোটা জেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং কবির সাম্য ও দ্রোহের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও বেগবান করেছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।