টানা বর্ষণে ভয়াবহ ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোন সময় সড়কের বড় অংশ ধসে ঘটতে পারে বড় দূর্ঘটনা

দামুড়হুদা অফিস
দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা-ছটাংগার মাঠ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কার্পাসডাঙ্গা-দামুড়হুদা আঞ্চলিক মহাসড়ক, কৃষিজমি ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণে খননকৃত স্থানে ব্যাপক ধস নেমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় মহাসড়কের বড় অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, চিৎলা-গোবিন্দহুদা ঈদগাহ সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশের প্রায় ২০ বিঘারও বেশি জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে আশপাশের একাধিক মাঠে যাতায়াতের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কার্পাসডাঙ্গা-দামুড়হুদা আঞ্চলিক মহাসড়কের একাধিক স্থানে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, টানা বর্ষণের কারণে খননকৃত স্থানে মাটি ধসে পড়ে পাশের কৃষিজমি তলিয়ে যাচ্ছে। মহাসড়কের একেবারে পাশ পর্যন্ত ভাঙন পৌঁছে যাওয়ায় যে কোনো সময় সড়কের বড় অংশ ধসে পড়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে বিষয়টি জানার পর শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে আগামীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা খালিদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আবুল হাসেম, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন,দামুড়হুদা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ,সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ হযরত আলীসহ জেলা প্রকৌশলী অফিসের কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী বৃন্দ ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।