চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড

স্টাফ রিপোর্টার
গত দুই দিনের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে সাড়ে ৬ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুই দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসের আদ্রতা ৩৪ শতাংশ। এতে গরমের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে দ্বিগুন মাত্রায়। হঠাৎ করে তাপমাত্রার উর্ধ্বগতিতে চুয়াডাঙ্গার জনজীবনকে করে তুলেছে অস্থির।
দুই দিন পূর্বে ৩১ মার্চ চুয়াডাঙ্গাতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গাতে তাপমাত্রা বেড়েছে সাড়ে ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হওয়াতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
জেলা আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। এর আগে বেলা ১২টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বুধবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা শহর ঘুরে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় তপ্ত রোদে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গোটা জনজীবন। সকাল সাতটার পর থেকেই তাপমাত্রার পারদ বাড়তে থাকে। এতে সুর্যের তাপও বাড়তে থাকে। রোদের তাপের কারণে শহরের মোটরসাইকেল-যানবাহন চলাচলে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। বের হলেও রোদের তাপ থেকে বাঁচতে ছাতা মাথায় দিয়ে বের হচ্ছেন সব শ্রেণির পেশার মানুষেরা। হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন অসহায় খেটে-খাওয়া মানুষেরা।
ভ্যান ও রিকশা চালকেরা পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত যাত্রী। সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন মাঠে কাজ করা শ্রমিকরা। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে ফসল উৎপাদনে কাজ করছেন তাঁরা । তপ্ত রোদের তাপমাত্রায় তাদের কষ্ট পোহাতে হয়েছে। রোদ গরম থেকে বাচঁতে অনেকেই গাছের ছায়া বিশ্রাম নিচ্ছেন। একই সাথে গরমে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঠান্ডা পানির শরবত ও আখের রস বেচাকেনা বেড়েছে। তাঁরা গরম থেকে স্বস্থি পেতে আখের রস ও ঠান্ডা শরবত পানি পান করছেন।
চুয়াডাঙ্গায় শহরের তরমুজ বিক্রেতা আব্দুল হাকিম বলেন এই জেলায় শীতের সময় শীত বেশি, আবার গরমের সময় গরম বেশি। এখনো গরমের মৌসুম সেভাবে আসে নাই। কিন্তু এখনি রোদের তাপ পড়ছে। আজকে আবার ভ্যাপসা গরম। একটা অসহনীয় অবস্থা। যে গরম আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুক। আমরা রাস্তার পাশে ফুটপাতে দোকানদারি করি। এই অসহনীয় গরমে আমাদের রাস্তার পাশে দোকানদারি করা খুব কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
চুয়াডাঙ্গায় শহরের মোটরসাইকেলচালক মহিবুল আলম বলেন, যে গরম আর রোদের তাপের কারণে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। ছাতা মাথায় দিয়ে বের হতে হচ্ছে। নয়তো রোদের তাপ মনে হচ্ছে আগুন। খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছি না। আবার ঘরেও টিকা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকলে তো খুবই মুশকিল। এই তীব্র গরমে ঘরে বাইরে কোথাও শান্তি নেই।
চুয়াডাঙ্গায় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জাহিদ হোসেন বলেন, এখন এ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।