রাজু আহাম্মেদ,কার্পাসডাঙ্গা
দামুড়হুদা উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক ও ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র কার্পাসডাঙ্গা বাজার এখন তীব্র যানজটের কবলে পড়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাজারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ও কেন্দ্রবিন্দুতে অবৈধ অস্থায়ী অটোস্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। কোনো রকম প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই চালকেরা যার যার ইচ্ছে মতো ব্যস্ততম সড়কের ওপরই ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখছেন। ফলে কার্পাসডাঙ্গা বাজারে প্রবেশের মূল স্থান কার্পাসডাঙ্গা ব্রিজ মোড় ও মুচি বটতলা এবং বাজারের মূল কেন্দ্রবিন্দু ইন্দ্রামোড়ে দিনভর তীব্র যানজট লেগেই থাকছে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয় দুটি শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী কার্পাসডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ এবং কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র প্রধান রুট হলো কার্পাসডাঙ্গা ব্রিজ মোড়। প্রতিদিন শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি ও তীব্র আতঙ্ক বুকে চেপে এই ব্যস্ততম ও বিশৃঙ্খল মোড়টি পার হতে বাধ্য হচ্ছে। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও চালকদের প্রতিযোগিতার কারণে প্রায়শই অটোর ধাক্কায় শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন সন্তানদের স্কুল ও কলেজে পাঠিয়ে তাদের সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। এখানে প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় চালকেরা প্রতিনিয়ত সড়ক আইন অমান্য করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে যা দেখার যেন কেউ নেই।
ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ, কার্পাসডাঙ্গা একটি ঐতিহ্যবাহী বড় বাজার হওয়া সত্ত্বেও এখানে সুনির্দিষ্ট কোনো যানবাহন পার্কিং বা স্থায়ী স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে চালকেরা পুরো বাজার এলাকাকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে এবং বাজারের মূল কেন্দ্রবিন্দু ইন্দ্রামোড়,ব্রিজ মোড় ও মুচিবটতলা সবসময়ই অটোরিকশার দখলে থাকছে। এতে দূর দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা বাজারে ঢুকতে পারছেন না। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাণিজ্যেও। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করেন কার্পাসডাঙ্গা বাজারের এই নৈরাজ্য দূর করতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই তিনটি মোড় থেকে অবৈধ অস্থায়ী অটোস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা জরুরি। একই সাথে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট ও স্থায়ী অটোস্ট্যান্ড নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।



