চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার
“জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিশ্চয়তা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে| বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়| অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার| সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল শামীমের সঞ্চালনায় ¯^াগত বক্তব্য ও কি নোট উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নরেশচন্দ্র বিশ্বাস|
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন চুয়াডাঙ্গাতে যে পরিমাণ উত্তাপ এবং একই সাথে বাতাসে জলীয় বাষ্পের যে পরিমাণ উপস্থিতি এটা শুধুমাত্র জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে| আজ থেকে ৪০ বছর পূর্বেও কিন্তু এমন তীব্র গরম এখানে ছিল না| ছোটবেলায় এসব এলাকায় মেছো বাঘ, বনবিড়াল, বেজি, শেয়াল এরা রাস্তাঘাটে বের হতো কিন্তু এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সকল প্রাণী এখন আর দেখা যায় না| পরিবেশে সকল প্রাণীর উপস্থিতি আমাদের কাম্য| তিনি আরো বলেন, বর্তমান যা পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছরেই পৃথিবীটা আর বাসযোগ্য থাকবে না| আমাদের আদিম যুগে পরিবেশ যেমন ছিল যাতে তেমন পরিবেশে নিয়ে যেতে পারি এবং পরিবেশের উন্নয়ন করতে পারি এইজন্যই এ সকল দিবসের আয়োজন করা| এ সকল বিষয় নিয়ে আমরা যাতে আরো সচেতনভাবে কাজ করতে পারি এজন্যই দিবস অনুযায়ী প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করি|
তিনি আরো বলেন, আমরা নিজেদের মতো করে একটা কাজ করতে পারি, সেটা হল প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো| যদি আমরা চুয়াডাঙ্গাকে ভালো রাখতে চাই, আমরা আজকে থেকেই অন্তর্ভুক্ত হয়ে আমরা এখানে যারা আছি তারা প্রত্যেকেই প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাই| পরিবেশ ভালো রাখতে প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই|
চুয়াডাঙ্গাতে ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার কমে গিয়েছে| যে কারণেই পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ বেড়েছে| আমাদের এমন গাছ লাগাতে হবে যেই গাছ পানি কম শোষণ করে| একটি সমীক্ষা বলছে ˆবশ্বিক উষ্ণতা ১ ডিগ্রি বাড়লে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে, এতে করে আমার দেশ অর্ধেক এমনিতেই পানির নিচে তলিয়ে যাবে| আমরা যদি এখনই সচেতন না হই তাহলে আর কবে আমরা এ দেশটাকে পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করতে পারব?
কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কৃষকেরা এক বিঘা জমিতে ১৭৭ মন আলু উৎপাদন করেন| এই বিপুল সংখ্যক আলু উৎপাদন করতে গিয়ে তিনি তার জমিতে ও ব্যাপক আকারের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেন| আলু বিক্রি করে তিনি ইলিশ মাছ কিনে খাচ্ছেন কিন্তু ২০ বছর পর তার নাতি কি খাবে? এখনই সময় নিজের পরিবেশ ঠিক করে ˆবশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করা| এতে করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ ও সুন্দরভাবে পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারবে|
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম এন্ড অপস জামাল আল নাসের , কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক দেবাশীষ কুমার দাস, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক ¯^পন, প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিল্লাল হোসেন, কম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান, ব্রাকের সমš^য়কারী মানিক ম্যাক্সিমিলিওন রুগ&গা, জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক বদরুদ্দিন, ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি খাজা নাসিরউদ্দিন, জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মানিক আকবর প্রমুখ|
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিন ইসলাম, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান, জেলা মার্কেটিং অফিসার শহিদুল ইসলাম, টিটিসির অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি প্রমুখ
আলোচনা সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আজকের দিনে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন| পরিবেশের উপর পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান| পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।