স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় এনজিওগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি কাজের সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে মাসিক এনজিও বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) আশফাকুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধিরা তাদের বিগত মাসের কাজের অগ্রগতি এবং আগামী মাসের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
যে সকল এনজিও সমূহ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদেরকে সরকারি কারিকুলামে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। আত্মহত্যা প্রবণতা কমানো, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন ও পাচার প্রতিরোধে এনজিওগুলোকে মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠক করার আহব্বান জানানো হয়। সভায় মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এনজিওগুলোর প্রতিটি প্রকল্প যাতে সাধারণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণে আসে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদক নির্মূল এবং পরিবেশ রক্ষায় এনজিওগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, আত্মবিশ্বাস ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে থাকে, বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম, বৃত্তি প্রদান, মৎস্য চাষ. স্যানিটেশন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যাকের প্রতিনিধি ম্যাক্সমিলান রুগা জানান, শিক্ষা কারিকুলামের বাইরে ব্র্যাক কোন বই পড়াচ্ছে না। এছাড়া, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করানো হচ্ছে। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জহির রায়হান জানান, ওয়েভ ফাউন্ডেশন ৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (৩০ জন করে) শিক্ষা প্রদান করে যাচ্ছে। তবে, হাউলী ও উথলী কেন্দ্রে বাইরের শিক্ষকদের দিয়ে পড়ানো হয়। প্রত্যাশার সাইদুর রহমান জানান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ে দামুড়হুদা ও আলমডাঙ্গায় ৭ টি সভা করা হয়েছে।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (ঝউএ) অর্জনে এনজিওগুলো সরকারের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রতিটি এনজিওকে স্বচ্ছতার সাথে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি কারিকুলাম ব্যতীত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। এনজিও সমূহকে মাদকবিরোধী, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, আত্মহত্যা প্রবণতা কমানো, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু পাচার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উঠান বৈঠক, সভা ও সেমিনার করতে হবে। এনজিও সমূহের কাজের অগ্রগতির প্রমাণাদি প্রত্যেক মিটিংয়ে উপস্থাপন করতে হবে। এতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এনজিও সমূহের ভূমিকা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি।
এনজিও বিষয়ক সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম তারিক উজ জামান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি অ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও বিভিন্ন এনজিও সমূহের প্রতিনিধিবৃন্দরা।
চুয়াডাঙ্গায় মাসিক এনজিও বিষয়ক সমন্বয় সভায় বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন



