চুয়াডাঙ্গায় তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে সব ধরনের যানবাহনের মালিকদের ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক সকল তেলপাম্পে প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত তেল দেওয়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক ও সকল তেলপাম্পে প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত তেল দেওয়া হবে। এ ছাড়া কোনো কনটেইনার বা জারে পেট্রোল ও অকটেন তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল বুধবার থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কেউ তেল পাবে না। গতকাল রবিবার বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।  
নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আলাউদ্দিন আল আজাদ এর সঞ্চালনায় জ্বালানি তেল বিষয়ক সভায় জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪টি উপজেলায় মোট ২২টি তেল পাম্প রয়েছে। আজ সোমবার থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল তেল পাম্পে একযোগে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়াও ৩০ ও ৩১ মার্চের মধ্যে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র এনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে জ্বালানি তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ‘ফুয়েল কার্ড’ ব্যতীত তেল ক্রয় করা যাবে না। কৃষকদের ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হয়েছে। রাত-দিন ২৪ ঘন্টায় কৃষকরা পাম্প থেকে ডিজেল তেল সংগ্রহ করতে পারবেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। সরকারি একটি সমীক্ষা বলছে গতবছরের তুলনায় এ বছর দেশে বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। তাই কেউ জ্বালানি তেলের সংকট বিষয়ে গুজব শুনে বিভ্রান্ত হবেন না। আগামী ১ এপ্রিল হতে ফুয়েল কার্ড ব্যতীত কাউকে তেল দেওয়া হবে না। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এক কপি ছবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় আসলে বিনামূল্যে একটি ফুয়েল কার্ড দেওয়া হবে। আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ দুই দিন কার্ড বিতরণ করা হবে। এছাড়া অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, রেজিষ্ট্রেশন ফটোকপি, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি, ১ (এক) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ফিটনেস এর ফটোকপি ও ট্যাক্স টোকেন ফটোকপি।
জরুরি সেবায় নিযুক্ত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, এম্বুলেন্স ও গণমাধ্যম কর্মিদের চুয়াডাঙ্গার রেলবাজারে অবস্থিত হক ফিলিং স্টেশন, শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ে অবস্থিত সুগদ্ধা ফিলিং স্টেশনের এ দুটি পাম্প থেকে তেল নিতে পারবেন। এছাড়াও প্রতিটি উপজেলায় জরুরি সেবার জন্য একটি  তেলের জন্য পাম্প নির্ধারিত করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি করা নিষিদ্ধ। কেউ যদি আইন অমান্য করে খোলা বাজারে তেল বিক্রি করেন তাহলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে সাজা দেওয়া হবে। কেউ কালো বাজারি মজুতদারি করলে তার বিরুদ্ধেও অ্যাকশন নেওয়া হবে। এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমার কোন কার্পণ্য নেই। আমি জেলায় পরিপূর্ণ আইন প্রয়োগ করবো। যারা লাইসেন্স বিহীন অবৈধভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন তাদেরকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। কয়েক দিনের মধ্যেই জেলায় অভিযান পরিচালিত হবে। লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল গুলোকে আমরা আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
মতবিনিময়ে ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা যেহেতু সীমান্তবর্তী এলাকা। এখান থেকে জ্বালানি তেল পাচার হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে যেতে পারে। আমরা বিজিবি এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। জ্বালানি তেল কোন মাধ্যমে যাতে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। জ্বালানি তেল পাচার রোধে সকলেই আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন। এই সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আমাদেরকে জানিয়ে আপনারা দেশ ও জাতির কল্যাণে অংশীদার হবেন আশা করি।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম তারিক উজ জামান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল, চুয়াডাঙ্গা তেল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি হাবিল হোসেন জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক তসলিম আরিফ বাবু, জেলা ট্র্যাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশীদ টনিক, পেট্রোল পাম্প মালিক আবুল কালাম, মামুন অর রশিদ আঙ্গুর, মনিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি অ্যাড. রফিকুল ইসলা, সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজাদ মালিতা,  সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাইজার চৌধুরী, বিপুল আশরাফ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু,  পৌর বিএনপি সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আকতার হোসেন জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন,  জীবননগর উপজেলা জামায়েত ইসলামীর আমির মাহফুজুর রহমান, জেলা দোকান মালিক সমিতির আহবায়ক মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ,  সদস্য সচিব সুমন পারভেজ,  জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিবসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পাম্প মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং গষমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।