স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসুচীর উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় কবির স্মৃতি বিজরিত আটচালা ঘর প্রাঙ্গনে পুস্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনে কর্মসুচী শুরু হয়।
দিনের শুরুতেই কবি নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর তার রুহের আত্নার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া শেষে কবির আটচালা ঘর প্রাঙ্গন থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি দামুড়হুদার উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা মিশনারী মাঠে এসে শেষ হয়। পরে কার্পাসডাঙ্গা মিশনারী মাঠে নজরুল বিষয়ক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
গাহি সাম্যের গান-মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান। নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি। দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালার গতকাল শনিবার প্রথম দিনে কবির স্মৃতিবিজড়িত আটচালায় নজরুল মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। এর আগে কবির কবির প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে দোয়া করা হয়। সকাল ১০টার দিকে কার্পাসডাঙ্গা মিশনারী মাঠে নজরুল বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন আলমের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক দীপক কুমার শাহা, দামড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তনু, চুৃয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ, জেলা জাসাসের সেক্রেটারী কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি সংসদের সভাপতি শামসউদ্দীন, সাধারন সম্পাদক মো. টুটুল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। দেশের মানুষ যখন কোন পথ খুঁজে পায়নি, দেশের মানুষ যখন বিপদে ছিল তখন কবি লিখে ছিলেন দুর্গম গিরী কান্তর মরু, দুস্তর পারাবার হে, লঙ্গিতে হব রাত্রি নিশিতে যাত্রীরা হুঁশিয়ার। এরকম কবিতার মাধ্যমে কত চমৎকারভাবে জাগিয়ে তুলেছেন এ জাতিকে। তেমনি ভাবে কাজী নজরুল ইসলাম অনেক গজলও লিখেছেন। তিনি লিখেছিলেন ও মোর রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। এত অসংখ্য কবিতা, এত অসংখ্য গজল এত উপন্যাস তিনি মাত্র ৪৩ বছরে লিখে গেছেন। আমরা তার কাছ থেকেই শিক্ষা নিই, তার কাছ থেকেই মানবতা শিখি এবং তার কাছ থেকেই দেশপ্রেম শিখি।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নয় নহে কিছু মহীয়ান। সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি, অসম্ভব চেতনার কবি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। যখন এই ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালিরা একেবারে নিশ্পেশিত নিপীড়িত তখন কাজী নজরুল ইসলাম লিখলেন চির উন্নত মম শির। শিরদাঁড়া করে এই বাঙালি জাতিকে মাথা উঠিয়ে বৃটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এই বাংলাকে স্বাধীন করা স্বপ্নের একজন সফল রূপকার ছিলেন তিনি। কবিতা লেখার জন্যই তাকে সশ্রম কারাদন্ড করা হয়। তাকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলে বিভিন্ন জেলে তাকে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ানো হয়। তারপরও তিনি দমে যাননি, তিনিই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে নুসরাত জাহান করবী।
বক্তারা কবি কাজী নজরুল ইসলামের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন। পরে একই স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আজ ২য় দিনে সকাল ১০টায় জেলা পর্যায়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, বেলা ১১টায় কার্পাসডাঙ্গায় মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা পর্যায়ে কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও বিকাল সাড়ে ৫টায় কার্পাসডাঙ্গায় মিশনারী মাঠে নজরুল বিষয়ক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চায়ন করা হবে নাটক নীলকুঠি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ আবদুল্লাহ হারুন। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এমপি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসুচীর উদ্বোধন



