তারিকুর রহমান, জীবননগর
জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ন্ত্রণে জীবননগরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম। তবে বাস্তবে তেল পাম্পগুলোতে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকরা কার্ড প্রদর্শন ছাড়াই জ্বালানি নিচ্ছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরও কার্ড যাচাই করতে দেখা যাচ্ছে না।
জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ না করার নির্দেশনা রয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩ এপ্রিল থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সব যানবাহনের চালক বা মালিককে নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন করেই তেল নিতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার থাকার কথা থাকলেও কিছু পাম্পে তাদের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে নিয়ম-কানুন না মেনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জীবননগর উপজেলার অন্তত ৬টি তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ রাত তিনটা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। কৃষকরাও ডিজেল সংগ্রহে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
জীবননগর ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক নজরুল ইসলাম বলেন, “ভোরে এসে ফুয়েল কার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ৫০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছি। কিন্তু পাম্পে কার্ড যাচাইয়ের কোনো কড়াকড়ি দেখিনি। শুনেছি, পুলিশকে ২০০ টাকা দিলে লাইনে না দাঁড়িয়েই তেল পাওয়া যায়। কার্ডও লাগে না।”
সুমন নামের এক গাড়িচালক বলেন, অনেক কষ্ট করে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করেছি। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেতে ভোগান্তি হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন ও পাম্পের চেনাজানা মানুষ এদিক-ওইদিক দিয়ে ঢুকে তেল নিয়ে যাচ্ছে। কার্ড ব্যবহারের বাস্তব প্রয়োগ দেখছি না।”
জীবননগর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জান্টু বলেন, “ফুয়েল কার্ডধারীদের ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। আর কার্ডবিহীনদের ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। জীবননগর দেহাটী পিয়াস ফিলিং স্টেশন ও জীবননগর নাসিম ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিক উজ জামান বলেন, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পেট্রল পাম্পে কার্ডধারীদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষিকাজের স্বার্থে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের অপচয় ও অবৈধ বিক্রি বন্ধ হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। নিয়ম অমান্য করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকের আগের তেল গ্রহণের তারিখ ও পরিমাণ উল্লেখ থাকে, যা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। কার্ড পেতে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কপি ও ছবি জমা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
জীবননগরে পাম্পে দীর্ঘ লাইন ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল বিতরণের অভিযোগ



