প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কার্পাসডাঙ্গায় নিবন্ধনহীন মোটসাইকেলে তেল, ভোগান্তিতে ফুয়েল কার্ডধারীরা

কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষা করে কার্পাসডাঙ্গায় এলাকায় নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে—বৈধ রেজিস্ট্রেশন নম্বর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলে তেল দেওয়া যাবে না। কিন্তু দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গার এম এম ফিলিং স্টেশনে সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই একাধিক মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পগুলোতে কঠোর নজরদারির কথা থাকলেও এখানে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও জরুরি পরিষেবার জন্য নির্ধারিত লেন ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে তেল নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জরুরি লেনের অপব্যবহার যেমন হচ্ছে, তেমনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে ট্যাগ অফিসারের সুপারিশ দাবি করছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী পরিচয়পত্র দেখিয়ে তেল পাওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসারকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, জরুরি প্রয়োজনে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখে তেল দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যাগ অফিসার জি এম মেহেদী হাসান বলেন, “সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখে তেল দেওয়ার কোনো নির্দেশনা আমার কাছে নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যেখানে জেলা প্রশাসন সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, সেখানে একটি নির্দিষ্ট পাম্পে নিয়ম ভঙ্গ ও ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতি প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।