থামছে না নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা জীবননগরে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর অব্যাহত

জীবননগর অফিস
জীবননগর উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সহিংসতার ঘটনা থামছেই না। একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন জুড়ে টানা কয়েকদিন ধরে হামলা,মারধর,দোকান বন্ধ করে দেয়া, রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর ও দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সর্বশেষ গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের বকুন্ডিয়া গ্রামে একটি হিন্দু পল্লীতে দূবৃত্তদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান,সকালে একদল ব্যক্তি এলাকায় ঢুকে বাড়িঘরে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রায়পুর ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কবির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে রায়পুর বাজারে ফল ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান ও মুদি ব্যবসায়ী ইন্তাজ আলীকে মারধর করে তাদের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই দিন বিকেলে ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়। মর্তুজা নামের এক ব্যক্তিকেও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসাদহ ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সুটিয়া স্কুল মাঠে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এছাড়া শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জীবননগর প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জীবননগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফয়সাল মাহতাব মানিক, সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেনসহ পাঁচজন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের দুই স্থানে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।
জীবননগর পৌর এলাকার নতুন তেতুলিয়া ও বাঁকা ইউনিয়নেও পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য জাহিমা খাতুনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার পরিবারের দুই সদস্যকে মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তা গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রুহুল আমিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাহমুদ হাসান খান বাবু-এর সঙ্গে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ধারাবাহিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সংযত আচরণই পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।