চুয়াডাঙ্গায় রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতিমূলক সভায় জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১২ টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, দ্রব্য মূল্যের দাম সারা বছর যা ছিল রমজান মাসেও যেন তাই থাকে। রোজাকে পুঁজি করে অধিক মুনাফার সুযোগ নিলে শাস্তির আওতায় আনা হবে। পোশাকের দোকানগুলোতেও দেখা যায় অনেক সময় অধিক মুনাফা লাভের আশায় অতিরিক্ত দাম নিয়ে থাকেন। একজন দোকানী ক্রয় মূল্যের থেকে ১৫ শতাংশ লাভ করতে পারবে তাছাড়া অধিক লাভ করা যাবে না। ঈদের সামনে দেখা যায় অনেক পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে থাকে সেটি করলে তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এছাড়াও তিনি ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আমরা অধিক পরিমানের খাবার একসাথে ক্রয় করব না। রমজান আসলেই আমরা রোজার বাজার করি, তাও সেটা পুরো মাসের বাজার করে রাখি। ১৮ কোটি মানুষ যদি ১ মাসের খাবার একসাথে কিনতে যায় তাহলে বাজারে প্রচুর পরিমাণে চাপ পড়ে যার ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা, দয়া করে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কেউ খাদ্যদ্রব্যের মজুদ করবেন না। ভোক্তারাও সারা মাসের বাজার এক সাথে করে খাদ্য মজুদ করে। এর কারণে বাজারে চাপ পড়ে এবং কৃত্রিম খাদ্য সংকট তৈরি হয় যার ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়।
তিনি আরও বলেন, সেহরি এবং ইফতার ২ সময়ই যে যে মসজিদে সাইরেনের ব্যবস্থা আছে তারা ১ থেকে ২ মিনিট সাইরেন বাজাবে। সেহরির সময় অনেক মসজিদে অনেক আগে থেকেই বয়ান বা ওয়াজ গজল চলতে থাকে, এটা মাইকে করা যাবে না। কারণ অনেকেই তাদের মত করে সেহরি করতে চায়। তাছাড়া অন্য ধর্মালম্বীর মানুষেরাও রয়েছে এবং এতে অনেকের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। যদি বয়ান করতেই হয় বিনা মাইকে করবেন। সেহরির আগে ১-২ মিনিট মাইকে আহ্বান করতে পারেন, কিন্তু মাইক লাগিয়ে গান-গজল, বয়ান এগুলো করা যাবে না। ইসলামী ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা মোতাবেক তারাবি নামাজ প্রথম ছয়দিন দেড় পারা ও তারপর থেকে প্রতিদিন ১ পারা করে পড়তে হবে।
সভায় পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় দুটি বিক্রয় কেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়ে একটি করে বিক্রয় কেন্দ্র তৈরী উদ্যোগ গ্রহন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব দোকানে প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও কৃষি বিভাগ ডিম, দুধ, গোশত, মুরগী ও ফলমূল নায্যে বিক্রি করার পরিকল্পনা গ্রহন করেছে।
এসময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার শাহাবুদ্দিন আহমেদ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক দীপক কুমার পাল, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীদ্র কুমার মণ্ডল, জেলা শিক্ষা অফিসার জেসমিন আক্তার, তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সুজাত কাজী, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহ-পরিচালক নরেশ চন্দ্র পাল, জেলা ক্রীড়া অফিসার সেলিম রেজাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী কর্মকর্তাগণ ও সাংবাদিকবৃন্দ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।