স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চালনায় সভায় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে গত মাসের সরকারি দপ্তরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন সহকারী কমিশনার এ.এস.এম. আব্দুর রউফ শিবলু। সভায় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এবার উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক সংখ্যা বাড়াবে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ২১ জন চিকিৎসক চুয়াডাঙ্গার ৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োগ দেওয়া হবে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ল্যাম্পপোস্ট ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। পুরাতন ল্যাম্পপোস্ট মেরামত করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিকে ক্যানালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হবে। সড়কে ধুলার প্রকোপ কমাতে রাস্তার দুই পাশে এবং ডিভাইডারের মাঝে ঘাস লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গায় নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। সারা বাংলাদেশে যেখানে ভোট পোলিং ৬০ শতাংশ সেখানে চুয়াডাঙ্গায় ভোট পোল হয়েছে ৭৬.৩৯ শতাংশ। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে পুলিশ। বিজিবি আজ সোমবার পর্যন্ত আর সেনাবাহিনী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। গণপূর্ত বিভাগের সাথে কথা বলে পরিষ্কারের পদক্ষেপ নেবেন।
তিনি আরোও বলেন, ফসলি জমি কখনো কোনোভাবেই অধিগ্রহণ করা যাবে না। ফসলি জমি বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে। যে জমিতে ফসল হয় সেখানে অধিগ্রহণ করা যাবে না। চুয়াডাঙ্গার ড্রেনের পানি মাথাভাঙ্গা নদীতে যাওয়ায় দিন দিন মাথাভাঙ্গা নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার প্রধান আন্তসীমান্ত নদী হলো মাথাভাঙ্গা, এই নদীকে আমাদের বাঁচাতে হবে। মাথাভাঙ্গা নদীকে বাঁচানোর জন্য পৌরসভাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। পৌরসভা ব্যবস্থা না নিলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। সুয়ারেজ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করতে হবে। প্রতিদিন মাইকিং করতে হবে এবং ড্রেনেজ লাইন ঠিক করতে হবে। যদি কোন সরকারি অফিসের সুয়ারেজ লাইন নদীতে দেওয়া থাকে, তবে উচ্ছেদ অভিযান ওই ওই অফিস থেকেই শুরু হবে। ঈদের পরে অ্যাকশন নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, মৎস্য চাষে কোনো সার প্রয়োগ করা যাবে না। সার প্রয়োগ করা মাছ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই মৎস্য দপ্তরকে নিশ্চিত করতে হতে হবে যে, কোন মাছ চাষী সার পাবেনা। তাছাড়া প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফলজ গাছ লাগাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাচ্চারা যাতে গ্রীষ্মকালীন ফল খেয়ে নিজেদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে পারে তার জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফলজ গাছ লাগাতে হবে। চুয়াডাঙ্গা সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ধুলোর প্রকোপ বেড়েছে তাই সড়কের দুই পাশে এবং ডিভাইডারের মাঝে ঘাস লাগাতে হবে। কেদারগঞ্জ নতুন বাজারে প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে ডেইরি প্রকল্পে নির্মিত ২ কোটি টাকার শেডটি পৌরসভাকে বুঝিয়ে দিতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী সভায় অগ্রগতি জানাত হবে। চিত্রা নদী ও ভৈরব নদ থেকে কচুরিপানা অপসারণ করতে হবে। কচুরিপানা জৈব সার হিসেবে ব্যবহার হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। বিভিন্ন হাট-বাজারে যে সকল গরু ও ছাগল জবাই করা হয় নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। জবাইয়ের আগে গরুও ছাগলের ভিডিও ধারণ করতে হবে।
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ৪৮ তম বিসিএস’এ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন নতুন চিকিৎসক পোষ্টিং হয়েছে। এরা শিগগিরই যোগদান করবেন। ফলে, প্রান্তিক স্বাস্থ্য সেবা কাঙ্খিত পর্যায়ে দিতে পারবে বলে আশা করছি।
আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো.মোস্তাফিজুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার, সদর ইউএনও রিফাত আরা, দামুড়হুদার ইউএনও উবায়দুর রহমান সাহেল, জীবননগর ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাবুদ্দিন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুজাত আলী, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ডা. আ.হ.ম শামিমুজ্জামান, ওজোপাডিকো লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব, কেরু এন্ড কোম্পানীর সহ-ব্যবস্থাপক মো. নুরুল হাসান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলওয়ার হোসেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা শিক্ষা অফিসার (অ.দা.) জেসমিন আরা খাতুন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, জেলা সঞ্চয় অফিসার নজরুল ইসলাম, মর্কেটিং অফিসার সহিদুল ইসলাম, জেল সুপার আসাদুর রহমান, পরিবেশ অধিদপপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি অ্যাড. রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রতিনিধি বিপুল আশরাফ এবং সমন্বয় কমিটির সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় গত ১০ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনে যোগদানকৃত ৪ জন সহকারী কমিশারদের পরিচয় করে দেয়া হয়। তাাঁরা হলেন, শাকিল মো. আবদুল্লাহ, জহির উদ্দিন, সাগর দে ও আব্দুল আওয়াল শামীম।
জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত আগামী সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গার তিন উপজেলায় ২১ জন চিকিৎসক নিয়োগ সকলের সহযোগিতায় অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত



