দর্শনা ডিএস মাদরাসায় অর্থ কেলেঙ্কারি দায়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান সাময়িক বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার
দর্শনা দারুস সুন্নাত সিদ্দীকিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদরাসায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বর্তমানে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আরিফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার মোঃ আরিফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মাদরাসা সূত্র জানায়, অভিজ্ঞ হিসাব বিশেষজ্ঞ এবং গভর্নিং বডির সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে মাদরাসার আর্থিক কার্যক্রমের অডিট পরিচালনা করে। অডিট চলাকালে দেখা যায়, দীর্ঘ বছর ধরে ক্যাশবুক, লেজার, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ হিসাব সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়নি। ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে মাদরাসার মালিকানাধীন মার্কেটের দোকানঘর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ আদায়কৃত ৮৬ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ টাকার মধ্যে ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকার কোনো বৈধ বিল-ভাউচার বা ব্যাংকে জমার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উক্ত অর্থ অভিযুক্ত শিক্ষকের নিকটেই রয়ে গেছে বলে প্রতীয়মান হয়।
এসব অভিযোগের আলোকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শফী উদ্দীনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে মোঃ আরিফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানানো হয়। মোঃ আরিফুজ্জামানের ইনডেস্ক নম্বর ইনডেক্স নং ২০১২৮৩৫।  
চিঠিতে বলা হয়েছে আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী অত্র মাদরাসার ২ ফেব্রুয়ারী তারিখে অনুষ্ঠিত গভর্ণিং বডির ১০ম/৬৪তম সাধারন সভার সিদ্ধান্তক্রমে আপনাকে জানাচ্ছি যে, যেহেতু আপনি অত্র মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তক্রমে আপনাকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করলেও আপনি কোন নোটিশ গ্রহণ করেন নাই। যেহেতু ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধান-২০২৩ (সংশোধিত) এর ধারা ১৫ এর আলোকে তদন্ত কমিটির সামনে আপনাকে স্বশরীরে উপস্থিত হতে বললেও আপনি অনীহা প্রকাশ করেন। যেহেতু সদ্য সমাপ্ত অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী আপনার নিকটে থাকা ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকা আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক আপনার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সেহেতু আপনার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়েরের কার্যক্রম পরিচালনা ও ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধান-২০২৩ (সংশোধিত) এর ধারা ১৫ এর আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ৩  ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং তারিখ হতে আপনাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকালীন আপনি বিধিমোতাবেক ভাতা পাবেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত চিঠি এখনো হাতে পাইনি। মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শফী উদ্দীন জানান, অডিট আপত্তির ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং সাময়িক বরখাস্তের আদেশ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও দপ্তরগুলোতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।