স্টাফ রিপোর্টার
পৌষের শেষের দিকে এসে চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ভোর থেকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সড়ক-মহাসড়ক ও ফসলের মাঠ। একই সাথে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বেড়ে গেছে শীতের তীব্রতা। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি হ্রাস পেয়েছে। কয়েকদিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও গতকাল মঙ্গলবার মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গতকাল চুয়াডাঙ্গায় জেলায় সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিন্ম তাপমাত্রা। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। হিমশীতল বাতাসে ক্রমেই শীত বাড়ায় প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
সারাদিনই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মত কুয়াশা ঝড়ছে। ঠান্ডা বাতাস, ঘন কুয়াশা আর মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারনে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের তীব্রতার কাছে এক রকম অসহায় হয়ে পড়েছে। জেলায় কয়েকদিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে এসেছে। সড়কে মানুষের চলাচল তেমন একটা নেয়। গতকালও সারাদিন রাস্তার ধারে খরকুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছে সাধারণ মানুষ। দুপুর ২ টার দিকে সূর্যের দেখা মিললেও বিকাল গড়ানোর সাথে সাথেই তা আবার মিলিয়ে যায়। এরপর সারারাত তীব্র শীতে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েন জেলার মানুষজন।
কুয়াশার পাশাপাশি ঠান্ডা বিরাজ করায় বাইরে লোকজনের উপস্থিতিও অনেকটাই কমে গেছে। শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায়দের। শীত থেকে বাঁচতে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে বেড়েছে মানুষের ভিড়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা মাঠে কৃষিকাজ করি। অনেক ভোরে উঠে মাঠে যেতে হয়। তীব্র শীতের কারণে সকালে উঠে মাঠে যাওয়া ভীষণ কষ্টকর হয়ে যায়। এমন শীত বহাল থাকলে আমাদের মাঠে কৃষিকাজ করতে অনেক অসুবিধা হবে। তাছাড়া এই তীব্র শীতে মাঠের ফসলের ফলনও বেশ কম। সঠিক পরিচর্যা না করতে পারলে ফলন আশানুরূপ হবে না । শীতের তীব্রতা কমলে স্বাভাবিক কৃষি কাজে ফিরতে পারবো আমরা।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রাজমিস্ত্রি মনিরুল বলেন, বর্তমানে কাজকর্মে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র শীত। কয়েক দিন ধরে চুয়াডাঙ্গাতে খুব বেশি শীত পড়ছে। এই শীতের কারণে আমিসহ আমাদের রাজমিস্ত্রির কেউই তেমন সকাল বেলা কাজে যেতে পারছি না। সকালে কাজে গেলেও রাস্তার পাশে খড়কুটোয় আগুন জেলে তার তাপ নিয়ে শীত নিবারণ করি। রিকশাচালক সবুর আলী বলেন, শীতের কারণে রিকশাতে যাত্রী সংখ্যাও কম। আগে সকালে এবং রাতে ভালই উপার্জন হত। কিন্তু বর্তমানে শীতের তীব্রতা বাড়ায় সকালে এবং রাতে যাত্রী নেই বললেই চলে। তাছাড়া তীব্র শীতে সকালে এবং রাতে রিকশা নিয়ে বের হওয়াটাও বেশ কষ্টসাধ্য। শীতের কারণে আমাদের উপার্জন করাটাও বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের এই ঊর্ধ্বগতির দামের কাছে আমাদের এই সামান্য উপার্জন নিয়ে বেঁচে থাকাটাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
সদর হাসপাতাল সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে শীত জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শুধু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৩০ জন শিশু ও বৃদ্ধ রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বয়স্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গতকাল মঙ্গলবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আরো দুই একদিন তাপমাত্রা একই ধরনের থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে এসেছে।
চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন



