চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

‘কবি-সাহিত্যিকরা কোনো একটি বিষয়কে সাধারণের থেকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে দেখে। এটিই তাঁদের বিশেষ গুণ।’ বলে মন্তব্য করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর ‘পদধ্বনি’-এর ১৫৮৪তম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। মূলত ‘পদধ্বনি’-এর ১৫৮৪তম পর্বে বিশেষ বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ। এই অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বিপিএম সেবাকে সম্মননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।

               চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সী আবু সাঈফের  সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বিপিএম সেবা এবং চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট্য সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব তৌহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী।

               স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন আনসার আলী, আবু নাসের খলিল, হুমায়ন কবির, হারুন অর রশিদ, আব্বাস উদ্দীন, অ্যাড. বজলুর রহমান। বর্ষামঙ্গল উপলক্ষে এই বিশেষ আয়োজনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আব্দুস সালাম তারা, সামান্তা, জিলানী ও বর্ণ। নৃত্য পরিবেশন করেন জ্যোতি ও প্রান্তিকা প্রাচী দেবী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করেন সাহিত্য পরিষদের অর্থ সম্পাদক মিম্মা সুলতানা মিতা ও লতিফা রহমান বনলতা।

               এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দর্শনা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজাউল করিম, চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন ও আনসার আলী, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, অ্যাড. কাইজার হোসেন জোয়ার্দার শিল্পী, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজল মাহমুদ, উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি হাবিবী জহির রায়হান, নজির আহমেদ, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

               অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষাকাল নিয়ে এখানে কয়েকজন সাহিত্যিক স্বরচিত কি সুন্দর কবিতা বলে গেলেন। একই বৃষ্টি আমরাও দেখছি, তবে আমাদের অনেকেরই অনুভূতি ভিন্ন। কিন্তু আপনাদের দেখা, দারুণ। চমৎকার কবিতাও রচনা করেছেন। এটিই কবি-সাহিত্যিকদের বিশেষ গুণ। তাঁরা কোনো একটি বিষয়কে সাধারণের থেকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে দেখে।’

               তিনি আরও বলেন, ‘কি করলে সাহিত্য চর্চা বাড়বে, সেটা করেন। আমি আগেই বলে গেলাম, আমি আপনাদের সাথে একমত। আমি সকল প্রকার সহযোগীতা করবো। সকল প্রতিকূলতার মাঝেও এই চর্চা চালিয়ে যেতে হবে।’

               বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বিপিএম সেবা বলেন, ‘আপনাদের এখানে আসলে ভালো লাগে। আপনাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। নিজেদের আয়োজন, সকলে মিলে এটা করতে। আমার অনুভূতি দারুণ।’

               তিনি আরও বলেন, ‘সাহিত্যের কারণে কোনো ঋতু হারাবে না। সাহিত্য বার বার তাঁদেরকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে।’ এ সময় তিনি করুণদের আরও বেশি সাহিত্য চর্চায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

               বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট্য সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি পরিবারিক জীবন থেকেই শিল্প সাহিত্যের ভিতর থেকে বেড়ে ওঠা, সাহিত্য পরিষদের এই ৫০ বছরে, আমাদের অনেক অনুষ্ঠান আছে,   এর সাথে অনেকে আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আমাদের প্রিয় মানুষটা যিনি তার উদারতা দিয়ে সাহিত্য পরিষদের জন্য করলেন তাকে অভিনন্দন জানাই।

               স্বাগত বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মেহেরাব্বিন সানভী বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতি ৫০ বছর আগে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৫০ বছর পরে আজও একটি ইতিহাস। এই ইতিহাসে আরও নতুন অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, বর্তমান পরিষদ সাহিত্য চর্চায় কিভাবে আরও মানুষের আগ্রহ তৈরি ও সম্পৃক্ত করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সাহিত্য চর্চার মান বৃদ্ধি নিয়েও কাজ করছে।

               সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার কাজ বলেন, ‘প্রায় ৪৮ বছরে এই সাহিত্য পরিষদে আমি ৫ বার সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেছি, ৩ বার সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তুু কোন জেলা প্রশাসক আমাদের সেভাবে সুযোগ দেইনি।  কিন্তু বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম আমাদের সাহিত্য পরিষদের যে ঘাটতি ছিলো, ছাদ দিয়ে পানি পড়তো, নানা অসুবিধাজনক ছিলো, এই মহেন্দ্রক্ষণে এসে তিনি একটা সুব্যাবস্থা করেছেন। আমি সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

               সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ‘পদধ্বনি’ আসরের ১৫৮৪তম পর্বের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *