স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয় | সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার| অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চালনায় সভায় গত মাসের কার্যবিবরণী পাঠ করেন সহকারী কমিশনার ( নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) ফাহাদ চৌধুরী| এসময় জেলার সকল দপ্তরের কার্য়ক্রম ও উন্নয়ন গতিশীল করার জন্য আলোচনা করা হয়|
সভায় জানানো হয়, জেলার সড়কে যে সকল ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে তা কর্তন করে দ্রুত অপসারণ করা হবে| সদর হাসপাতালের আইসিইউ অ্যা¤^ুলেন্সের রুট পারমিট করা হবে| সেই সাথে হাসপাতালের আইসিইউ রক্ষণাবেক্ষণ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা পরিচালনা করতে হবে| চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে| জেলায় খাল খনন ও বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে| সার বণ্টন ও নির্ধারিত চাহিদার থেকে বেশি সার সরবরাহ করা যাবে না| কৃষক কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক বিভাজন ˆতরী করা যাবেনা| পরে সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তারা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেয়|
মুক্ত আলোচনায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার ˆমত্র বলেন, জেলার যে সকল মরা গাছ আছে সেগুলো দ্রুত অপসারণ করা হবে| পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার বলেন, জেলায় বর্তমানে ডেঙ্গুর উপদ্রব বেড়েছে| চুয়াডাঙ্গার পৌরসভার ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখা হচ্ছে যাতে করে ডেঙ্গুর উপদ্রব কম হয়| পৌরসভা থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি করে ফলজ এবং একটি করে বনজ গাছ প্রদান করা হবে|
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, পানি জীবনের একটি অংশ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পানি বেশি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে| জেলার ১১২ টি ব্লকের মধ্যে চারটি উপজেলায় চারটি ব্লকে ১০ হাজার ৭৩৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার জন্য বাছাই করা হয়েছে| দামুড়হুদা উপজেলা ব্লকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ৫ হাজার ৯৫০ জনকে কৃষক কার্ডের জন্য বাছাই করা হয়েছে| এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমেই সার ক্রয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা সে পাবে| বর্তমানে জেলায় যে সার সংকট রয়েছে সেটি অতি দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশা করছি| চলতি মাসে জেলায় ইউরিয়া সার ৪৯.৫০ শতাংশ উত্তোলন করা হয়েছে| জেলায় বর্তমানে সারের সংকট নেই| তবে কিছু অসাধুচক্র সারের অবৈধ মজুদ করে সংকট করার অপচেষ্টা করতে পারে| পাটের আবাদ বেড়েছে, তবে পাট জাগ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না| অতিবৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গার ৪ উপজেলায় ৬২৬ হেক্টর জমি পানিতে নিন্মজিত হয়েছিলো|
এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, কৃষক কার্ড ˆতরীর ক্ষেত্রে যাতে কোন রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি যেন না হয়| যে যে দলেরই হোক না কেন কৃষককে অবশ্যই কৃষক কার্ড করে দিতে হবে| সাধারন কৃষকের কোন দল নেই| ইতোপূর্বে আমরা দেখেছি জ্বালানি তেল নিয়ে একটি অসাধুচক্র কৃত্রিম সংকট ˆতরি করেছে বর্তমানে সেটিরই পায়তারা চলছে| অনেক অসাধুরাই সারের কৃত্রিম সংকট ˆতরি করে মার্কেটে একটি ক্রাইসিস ˆতরি করতে চাচ্ছে| যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা আমরা কঠিন হস্তে দমন করব|
খাদ্য কর্মকর্তা জানান, জেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে| সেই সাথে শতভাগ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে| খাদ্য সংকট কমাতে জেলা খাদ্য অফিস আগেভাগেই এসকল খাদ্যদ্রব্য মজুদ করছে| জেলায় ৫২৭ মেট্রিক টন চাল অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে|
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়নের সকলকে সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে| চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ড্রেনেজ লাইন গুলো ঠিক করতে হবে এবং মশক নিধন কর্মসূচি পালন করতে হবে| বর্ষার মৌসুমে কোন আন্ডার কনস্ট্রাকশন বিল্ডিং এর পানি, ফুলের টব এবং ডাবের খোসায় জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে| সড়ক ও জনপথ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশলের যে সকল জায়গা দখল অবস্থায় আছে সেগুলো দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে| তিনি আরোও বলেন, পুরো দেশজুড়ে ¯^াস্থ্য সেবার মান খুবই খারাপ| আমরা প্রায়ই খবরের কাগজে এটি দেখতে পাই| তাই খুব দ্রুতই চুয়াডাঙ্গা জেলার ¯^াস্থ্যসেবা উন্নত করতে হবে| চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রচুর পরিমাণে ময়লা আবর্জনা দেখতে পাওয়া যায়| খুবই দ্রুত সেটি অপসারণ এর ব্যবস্থা করতে হবে| কয়েকদিন আগে যে আইসিইউ সেটআপ করা হলো কিন্তু সেটি লক্ষ্য রক্ষনাবেক্ষণের কোন লোক নেই| এ সকল দামি সরঞ্জামাদি রক্ষণাবেক্ষণে খুব দ্রুতই ¯^াস্থ্য বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে|
ফিফা বিশ্বকাপ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আজকে রাতেই ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে| তাই রাতে যেন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে সেটি খেয়াল রাখতে হবে| যদি লোডশেডিং করতে হয় প্রয়োজনে দিনে লোডশেডিং কমেরে রাতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে হবে| এ বিষয়ে ওজোপাডিকো এবং পল্লী বিদ্যুৎ কে সতর্ক থাকতে হবে| সেই সাথে সকলকে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে হবে| বিদ্যুৎ অপচয় কমালে লোডশেডিং কম হবে বলে আশা করি|
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, আমি জেলাতে যখন আসি তখন জেলায় লেখাপড়ার মান ছিল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ| কিন্তু বর্তমানে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ লেখাপড়ার মান রয়েছে এবং ইংলিশ লেখাপড়ার মান ৫৮ থেকে ৬২ শতাংশ| বর্তমানে জেলাতে লেখাপড়ার মান একটু ভালো| বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার মাঝখানে কিছুটা কমে গেল বর্তমান উপস্থিতি বেড়েছে| মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম চরম পর্যায়ে পৌছেছে বলে মন্তব্য করেন নবাগত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার|
এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার প্রাথমিক শিক্ষার লেখাপড়ার মান খুবই খারাপ| জেলাতে যে লেখাপড়ার মান ৬০-৬৫ শতাংশ, সেটা আমি কোনভাবেই মানতে রাজি নই| অনেক প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো লিখতে পড়তে জানে না| খুব দ্রুতই সকল প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকগণকে নিয়ে বসতে চাই| প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার মান বাড়াতে হবে| প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ সেটি মনিটরিং করবে| আগামী ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে জেলায় ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষ মেলা অনুষ্ঠিত হবে| চুয়াডাঙ্গা মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গনে এ মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে| এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হবে এবং ১০টায় আলোচনা সভা শেষে বর্ষার গান অনুষ্ঠিত হবে|
ˆদনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ বলেন, জেলার রেলওয়ে স্টেশনে ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি ভবন ˆতরি হচ্ছে| কিন্তু জেলা উন্নয়ন সমš^য় কমিটির সভার মিটিং এ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা না থাকায় আমরা কোন আপডেট তথ্য পাচ্ছিনা| সেই সাথে উপ-কর কমিশনার বিগত বছরে কি পরিমাণ কর আদাই করেছে এবং এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ের কোন তথ্য পাচ্ছি না| এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, দুটি বিষয়ে অধীন গুরুত্বপূর্ণ| আমরা এ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর চিঠি লিখব| এর পরের মিটিংয়ে অবশ্যই এ বিষয়ে জানানো হবে|
সমš^য় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডাক্তার হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ ) মিনহাজ উল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, টিটিসির অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক ¯^প
চুয়াডাঙ্গা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, ড্রেনেজ ও সার ব্যবস্থাপনায় একাধিক নির্দেশনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম চরমে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো রিডিং পড়তে পারে নাজেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার



