চুয়াডাঙ্গায় গণপূর্তের কোয়ার্টারে প্রকৌশলীর স্ত্রী-কন্যাকে কুপিয়ে জখম হামলাকারী নারী রাফিয়া পুলিশ হেফাজতে

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা গণপূর্তের সরকারি আবসিক ভবনে ঢুকে এক উপসহকারী প্রকৌশলীর পরিবারকে কুপিয়ে জখম করার খবর পাওয়া গেছে। হামলাকারী রাফিয়ার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন গৃহকর্তার স্ত্রী শরীফা আক্তার (৪৫) ও তারঁ স্কুল পড়ুয়া কন্যা অরনি। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে এক হামলাকারীকে হাতেনাতে ধরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আটককৃত ওই নারী  মোছা. রাফিয়া, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কুলচারা গ্রামের রাজিব আহম্মেদের স্ত্রী।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শামীম ফেরদৌস বাড়ির বাইরে অবস্থান করার সুযোগে এক দুষ্কৃতকারী নারী তার সরকারি বাসায় প্রবেশ করে। পরিকল্পিতভাবে সে সময় ঘরে থাকা প্রকৌশলী মোঃ শামীম ফেরদৌসের স্ত্রী শরীফা আক্তার এবং তার ছোট মেয়েকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় ধারালো অস্ত্রের (চাপাতি) আঘাতে গৃহবধূর মাথা, হাত ও পিঠে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে  আহত মা ও মেয়ে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।
আহত শরীফা আক্তার বলেন, রাফিয়া আমার বড় মেয়ে ডা. তানজিয়া তাসমিমের চাচাতো ননদ। প্রথমে সে এমনভাবে বাসায় ঢুকেছে, যে বোঝা যায়নি। পরবর্তীতে সে এসে আমার গলায় চাপাতি ধরে। আমি প্রথমে মনে করেছি সে আমার সাথে দুষ্টামি করছে। পরে আমাকে আঘাত করার পর আমি বুঝতে পেরেছি সে আমাকে মারার চেষ্টা করছে। পরে আমার ছোট মেয়ে এসে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে। এক পর্যায়ে তার হাত থেকে চাপাতি ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হলে আমার ঘরে থাকা বটি দিয়ে সে আমার মাথায় কোপ দেয়। তখন আমার ছোট মেয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের ডাকলে তারা এসে আমাদের উদ্ধার করে। আমার ছোট মেয়েও আঘাত পেয়েছে। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে হামলাকারী রাফিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এবং স্থানীয়রা আমাকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, এর আগেও রাফিয়া অনেকের সঙ্গে এরকম করেছে। তার নামে থানায় মামলাও রয়েছে। সে আমাদেরকে হত্যা করে আমাদের বাড়ির নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যেতে এসেছিল। আমার বড় মেয়ের বিয়ের নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ রহমান বলেন, ধৃত নারীকে হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঠিক কী উদ্দেশ্যে এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।