আলমডাঙ্গা অফিস
চুয়াডাঙ্গার একটি বেসরকারি চক্ষু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী রোগী। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণের পর তার বাম চোখের অবস্থার অবনতি ঘটে এবং বর্তমানে ওই চোখ অপসারণ না করলে ডান চোখও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কুয়াতলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাহাদৎ হোসেনের ছেলে মো. রাশিদুল ইসলাম গত এপ্রিল মাসে বাম চোখে ভাইরাসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। পরে ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তিনি চুয়াডাঙ্গা আই কেয়ারে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. এম. বি. আজমের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেন। ওষুধ ব্যবহারের সাতদিন পর থেকেই তার চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এরপর ১০ মে পুনরায় চিকিৎসকের কাছে গেলে চেম্বার থেকে একটি আই ড্রপ ব্যবহারের পর জ্বালাপোড়া আরও বেড়ে যায় এবং রাতে তার চোখের মণি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরদিন ১১ মে আবার চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসক তার কিছু করার নেই বলে জানিয়ে ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগী রাশিদুল ইসলাম অভিযোগে আরও বলেন, তিনি পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। চোখের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের ইজিবাইক ও একটি গরু বিক্রি করতে হয়েছে। এছাড়া আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েও চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ব্যয় হলেও তার চোখের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বর্তমানে চিকিৎসকেরা তার বাম চোখ অপসারণের পরামর্শ দিয়েছেন, অন্যথায় ডান চোখও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ধরনের কোন লিখিত অভিযোগ আমার দপ্তরে আসেনি। অভিযোগ পেলে আবশ্যই দ্রুত নিরপেক্ষ ডা. দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। দোষী প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, উপরোক্ত ঘটনায় ডা. আজম আমাকে জানায়, যে ড্রপ রাশিদুলকে দেয়া হয়েছে, সাধারনত বেশিরভাগ রোগীকে ওই ড্রপ দেয়া হয়।
ভুল চিকিৎসার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আজমের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ



