স্টাফ রিপোর্টার
আলমডাঙ্গায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর কিশোর রাফিজ মিয়াকে হত্যার ঘটনায় পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের মোছা. আমেনা খাতুনের (৫৬) নাতি রাফিজ মিয়া (১৫) গত ৫ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। একই দিন রাত ১১টার দিকে অপহরণকারীরা রাফিজের নানির মোবাইল ফোনে কল করে কিশোরটির কান্নাজড়িত কণ্ঠ শুনিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে। পরে গত ১৩ জুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে জনৈক মজিদের জমির পুকুর থেকে রাফিজ মিয়ার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) এবং আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানার নলিয়া গ্রাম রেলস্টেশন জামালপুর বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. লাল্টু মিয়া (৪১) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় তাকে অপহরণ করলে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা সম্ভব হবে এমন পরিকল্পনা করেই তারা ঘটনাটি ঘটায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ জুন সন্ধ্যায় রাফিজকে ফোনে ডেকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুরে মজিদের জমি সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে কল দিয়ে নির্যাতনের চিৎকার শুনিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দিতে ব্যর্থ হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাল্টুসহ অন্য আসামিরা রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে রাফিজকে হত্যা করে এবং মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে রেখে যায়। হত্যার পরও আসামিরা মোবাইল ফোনে একাধিকবার মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে। গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করেছে।
আসামিকে আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীর নামে ঝিনাইদহ হরিণাকুন্ড ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় দুইটি হত্যাসহ ৩ টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আলমডাঙ্গায় কিশোর রাফিজ হত্যার প্রধান আসামি গ্রেফতার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি



