তিন মাসে ১০৯ মামলা, গ্রেফতার ২৪৪ আলমডাঙ্গায় মাদকের উৎস নিয়ে নতুন প্রশ্ন অভিযানে সাফল্য থাকলেও তবুও থামছে না মাদক কারবার

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গায় অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হচ্ছে, অন্যদিকে মামলা ও গ্রেফতারের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এত অভিযানের পরও মাদকের উৎস কোথায় এবং কারা এর নেপথ্যের গডফাদার ? আলমডাঙ্গা থানা, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মার্চ, এপ্রিল ও মে ২০২৬ সালের সমন্বিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিন মাসে মোট ১০৯টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ২৪৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক মামলার আসামি ১২৪ জন এবং নিয়মিত মামলার আসামি ১২০ জন। তিন মাসে উদ্ধার হয়েছে ৭ হাজার ৭৯০ পিস টাপেন্টাডল, ১৭৮ পিস ইয়াবা, ৭১০ গ্রাম গাঁজা, ৬৭০ বোতল হোমিওপ্যাথিক অ্যালকোহল, ১৪ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন এবং মাদক বিক্রির ৪৫ হাজার ৯১০ টাকা নগদ অর্থ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসেই সবচেয়ে বেশি তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। ওই মাসে ১৮টি মাদক মামলায় ৪০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৫ হাজার ৪৭১ পিস টাপেন্টাডল, ৮৫ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজা। এছাড়া চোরাই মোটরসাইকেল, বৈদ্যুতিক মোটর, বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, এপ্রিল মাসে চোরাই মাল উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে। এ সময় উদ্ধার করা হয় ছাগল, চাল, স্বর্ণালংকার, রুপার বালা, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ। মার্চ মাসে উদ্ধার হয় অবৈধ ড্যাগার ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য।
এ ছাড়া, তিন মাসে মোট ২৭ জন ভিকটিম উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ফল আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, অপরাধ দমনে পুলিশ যেভাবে কাজ করছে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার হলেও মাদকের মূল উৎস ও গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি। তা হলে অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, প্রায় প্রতিদিনই মাদক উদ্ধার ও গ্রেফতারের খবর মিললেও মাদকের সরবরাহ যেন থামছেই না। ছোটখাটো কারবারিরা ধরা পড়লেও বড় সিন্ডিকেট ও নেপথ্যের হোতারা কতটা আইনের আওতায় আসছে, তা নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা রয়েছে। তাদের ভাষ্য, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হলেও আইনের নানা ফাঁকফোকর, বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।
বাস্তবতা হলো, অনেক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ভয়ভীতি, হুমকি ও প্রতিশোধের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ এবং সাক্ষীরা আদালতে সঠিক সাক্ষ্য দিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও ধারাবাহিক অভিযানের পরও মাদকের মূল হোতা ও সিন্ডিকেটগুলো বহাল তবিয়তেই রয়ে যাচ্ছে।
তবে অনেকের মতে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, সাক্ষী সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং মাদকের মূল সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে মাদক কারবার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এতে সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং এর সুফল ভোগ করবে আলমডাঙ্গা উপজেলার সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।