নাজমুল হক শাওন আলমডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদি গ্রামে মরহুম এক বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বীর নিবাস ঘরকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সরকারি চাকরির প্রভাব খাটিয়ে নিজের পিতার নামে বীর নিবাসের সুবিধা গ্রহণ, অন্যের জমিতে ঘর নির্মাণ এবং পরে সেই ঘর অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তরের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাড়াদি গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর আলী-এর ছেলে ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাঈল হোসেন কয়েক বছর আগে তার পিতার নামে সরকারের বীর নিবাস প্রকল্পের একটি ঘরের বরাদ্দ গ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বাড়াদি গ্রামেই একটি সুদৃশ্য ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা শহরেও তার জমি ও বাড়ি রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দকৃত সরকারি সুবিধা গ্রহণ নিয়ে শুরু থেকেই এলাকায় প্রশ্ন ছিল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বীর নিবাস ঘরটি বর্তমানে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো উপকারভোগী বসবাস করছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত ঘরটি আত্মীয় সায়েরা খাতুন-এর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই ঘরটি সায়েরা খাতুন ও তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে দেওয়ার চুক্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরই মধ্যে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সায়েরা খাতুন। পরে তিনি বলেন, ঘরটি নির্মাণের সময় তাকে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে বলতে হবে যে জমি বিনিময়ের মাধ্যমে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো জমি বিনিময় হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে ঘরটির জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং তিনি ইতোমধ্যে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের ভাষ্য, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সরকারের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে নির্মিত বীর নিবাস প্রকল্প কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হতে পারে না। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে তা শুধু সরকারি সম্পদের অপব্যবহারই নয়, বরং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গেও প্রতারণার শামিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাঈল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের শালিকার জমিতে ঘরটি নির্মাণ করেছি। তিনি আমাকে ভাই বলে ডাকেন। সেই সম্পর্কের কারণেই সেখানে ঘরটি করা হয়েছে। ঘরটি বিক্রি করা হয়নি এবং তার কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগের সত্যতা মিললে সরকারি সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি সম্পদের কোনো ধরনের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বীর নিবাস ঘর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সরকারি ঘর আত্মীয়ের জমিতে নির্মাণ, অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তরের অভিযোগ; তদন্তের দাবি



