তিতুদহ প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলাধীন তিতুদহ ইউনিয়নের হুলিয়ামারী গ্রামে উদ্ধার হওয়া বিপন্ন ও সংরক্ষিত প্রাণী মেছোবিড়ালের দুইটি শাবককে নিরাপদে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা। সচেতনতা ও ধৈর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে হুলিয়ামারী গ্রামের ঈদগাহ সংলগ্ন একটি বাঁশবাগানে কাজ করার সময় স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ বাঘের শাবকের মতো দেখতে দুইটি প্রাণীর বাচ্চা দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানান। প্রথমে অনেকেই প্রাণীগুলোকে বাঘের শাবক মনে করলেও পরে সেগুলোকে না ছুঁয়ে বা ক্ষতি না করে তাদের মায়ের জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।
এ সময় মিরাজ ঘটনাটি পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ-এর সভাপতি এবং বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যার প্রভাষক আহসান হাবিব শিপলুকে অবহিত করেন। তাঁর পরামর্শে সবাই নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে শাবকগুলোর ওপর নজরদারি করতে থাকেন।
কিছুক্ষণ পর মা মেছোবিড়াল এসে একটি শাবককে নিয়ে যায়। তবে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও অপর শাবকটিকে নিতে না আসায় উপস্থিত সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা চালিয়ে যান। অবশেষে রাত ৯টা দিকে মা মেছোবিড়াল ফিরে এসে দ্বিতীয় শাবকটিকেও নিয়ে যায়। এতে উপস্থিত সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
আহসান হাবিব শিপলু বলেন, মেছোবিড়াল একটি বিপন্ন ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের এলাকায় একে বাঘডাশা বা বাঘরোল বলা হয়। বাঘের মতো দেখতে হওয়ায় অনেকেই ভুল করে প্রাণীটিকে হত্যা করেন। অথচ এটি কৃষকের বন্ধু। ইঁদুর খেয়ে একটি মেছোবিড়াল তার জীবনকালে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ফসল রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায়ও এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় সাহাবুল, নিরব, উজ্জল, রনি, সুমনসহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।



