কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের সদাবরী গ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রামের কুদ্দুস খরার দোকান থেকে সোরাপ বিশ্বাসের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি অল্প বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায়। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই পাড়ার প্রায় ১৫ থেকে ২০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির পর পুরো রাস্তা হাঁটুসমান পানিতে ডুবে থাকে। এতে কোনটি রাস্তা আর কোনটি নিচু জমি তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাড়ি থেকে বের হওয়া যেমন কষ্টকর হয়ে উঠেছে, তেমনি স্কুলগামী শিশুরাও সময়মতো বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় এলাকায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে লালু মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ আলী ও মান্দার আলীর ছেলে আজিজুল মোল্লা গাইন রাস্তার জমে থাকা পানি পাশের খালে নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেন। তারা নিজস্ব অর্থায়নে মাটির নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে পানি খালে প্রবাহিত করার পরিকল্পনা করেন এবং প্রয়োজনীয় পাইপও কিনে আনেন তবে তাদের এ উদ্যোগ বাধার মুখে পড়ে।
মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, পাড়ার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা পাইপ বসানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু ভায়ান বিশ্বাসের ছেলে জয়নালসহ তাদের লোকজন এতে বাধা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমরা খালের দিকে যাওয়ার ওই পথটি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দিয়েছি। তারা যদি পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসাতে না দেয়, তাহলে আমরাও কেন আমাদের জায়গা বা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দেব? তারা পাইপ বসাতে সম্মতি দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে প্রাচীর সরিয়ে ফেলব
পাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাদের মতে, মাটির নিচ দিয়ে পাইপ স্থাপন করলে কারও কোনো ক্ষতি হতো না। কিন্তু ব্যক্তিগত অনমনীয়তা ও বিরোধের কারণে পুরো মহল্লাবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, মাটির নিচে পাইপ স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং চলাচলের রাস্তা থেকে নির্মিত প্রাচীর অপসারণে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
দামুড়হুদায় পানি নিষ্কাশনে বাধা, ক্ষোভে রাস্তা ঘিরে প্রাচীর নির্মাণ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী ১৫-২০ পরিবার, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী



