কোথাও আগুন লাগলে পানির অভাবে আগুন নেভানো সম্ভব হয় না, এক্ষেত্রে মাথাভাঙ্গা নদী বড় একটি উৎস হতে পারে : চুয়াডাঙ্গায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার


অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন এ প্রতিপাদ্যকে ধারন করে চুয়াডাঙ্গায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে| গতকাল বুধবার সকাল ১০ টায় চুয়াডাঙ্গা ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে সপ্তাহের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার| উদ্বোধনের শুরুতে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা ও ফায়ার সার্ভিসের পতাকা উত্তোলন করা হয়|
পরে স্টেশন কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়| সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর খালিদ হুসাইন| অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার| তিনি বলেন ফায়ার সার্ভিসের ইতিহাস অনেক পুরনো| ১৯৩৯/৪০ সালে ব্রিটিশ উপমহাদেশের সময় ফায়ার সার্ভিস চালু হয়| পরে ১৯৫১ সালে ফায়ার সার্ভিসের সাথে সিভিল ডিফেন্স নাম যুক্ত করা হয়| পরে এটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়| বর্তমানে এটি ¯^রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে| বর্তমান সরকার বাংলাদেশ আরও ২০টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ˆতরীর পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং প্রতিটি স্টেশনে ১০০ টি করে অ্যা¤^ুলেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে| সেই সাথে ৩০ হাজার নতুন ফায়ার সার্ভিস সদস্য নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে|
তিনি আরোও বলেন, আমাদের অসচেতনতার কারণেই কিন্তু বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে| পৌরসভার অভ্যন্তরে বহুতল ভবন ˆতরীর ক্ষেত্রে ভবনের ধারে পাশে ইমার্জেন্সি এক্সিটের জায়গা রাখতে হয় অনেকেই তা রাখেন না| যার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতেও দেরি হয়| আরেকটি বড় সমস্যা হলো পানি| কোথাও আগুন লাগলে পানির অভাবে আগুন নেভানো সম্ভব হয় না| এক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী বড় একটি উৎস হতে পারে| তাই আমাদের মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাতে হবে| আমরা দেখি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে জনগণের সেবা করে যান| এজন্য আপনাদের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা রইল|
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন) মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সরকার বা রাষ্ট্রের এমন একটি প্রতিষ্ঠান যাকে প্রয়োজন হয় বিপদের সময়| কোন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে সৃষ্টিকর্তার পরেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপরে নির্ভর হওয়া যায়| তাদের নাম ফায়ার সার্ভিস হলেও তাদের কাজের পরিধি ব্যাপক| তাদের আন্তরিকতা ও সাহসিকতার মধ্যে দিয়েই অনেক জীবন বেঁচে যায়| কোন জায়গা আগুন লাগলে আগুনের তাপে কাছেই যাওয়া যায় না| সেখানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুনকে তোয়াক্কা না করে মানুষের জীবন বাঁচান| তারা অনেক সময় বিভিন্ন কাজের জন্য প্রতিবন্ধকতায় পড়েন| আমরা চাই তাদের কাজ সহজ হোক এতে আমাদের সকলেরই সহায়তার প্রয়োজন|
এছাড়া বক্তব্য রাখেন উপজেলা ¯^াস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আউলিয়ার রহমান, স্টেশন অফিসার ওহিদুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিসের ড্রাইভার মোস্তাফিজুর রহমান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি প্রমুখ|
বক্তারা বলেন, ফায়ার সার্ভিস শুধু আগুন নেভানোর কাজ করে না| সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-আহতদের উদ্ধার ও নৌ দূর্ঘটনায় বা নদীতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধার তৎপরতা তারা চালান| এছাড়াও প্রাকৃতিক দূর্যোগে এবং মানবসৃষ্ট দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তারা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যান|
আলমডাঙ্গা অফিস জানায়
আলমডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে| গতকাল বুধবার সকাল দশটায় আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়|
অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার মোঃ আল মামুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আক্তার| এসময় তিনি বলেন, অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই| দুর্ঘটনা ঘটার আগে সচেতনতা ˆতরি করতে পারলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব| তিনি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, মানুষের জানমাল রক্ষায় তারা সবসময় সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন| বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের প্রতিনিধি এসআই আশরাফ, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক ড. মাহাবুবুর রহমান এবং সাবেক বণিক সমিতির সভাপতি মকবুল হোসেন|
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার মোঃ আল মামুন তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা ˆতরির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে| এর মধ্যে রয়েছে অগ্নি নির্বাপণ মহড়া, সচেতনতামূলক আলোচনা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রদর্শনী ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম| অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ ও আলমডাঙ্গা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।