গভীর রাতে দমকা বৃষ্টি ও ভয়াবহ বজ্রপাতে বিদ্যুৎ বিহীন চুয়াডাঙ্গা , আম কুড়াতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার


চুয়াডাঙ্গা জেলা ও এর আশেপাশের অঞ্চলে মঙ্গলবার গভীর রাতে দফায় দফায় আঘাত হেনেছে দমকা হাওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টি| দমকা হাওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে| এর মধ্যে পৌর এলাকায় ঝড়ের সময় আম কুড়াতে গিয়ে ছিঁড়ে পড়া ˆবদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে সাদ্দাম হোসেন (২৬) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে| দমকা হাওয়ার সাথে ঘন্টাব্যাপী বজ্রপাতে মানুষ আতংকিত হয়ে পড়ে| মধ্যরাতে প্রচন্ড আওয়াজে বাচ্চারা কান্না শুরু করে দেয়| অনেকেই দোয়া-দুরুদ পড়তে থাকে| যা স্থানীয় মানুষের মনে চরম ভীতির সঞ্চার করে| এছাড়া আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা সড়কে বিশাল গাছ উপড়ে পড়ায় প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে| ঝড়োবৃষ্টিতে মধ্যরাত থেকে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জেলা| গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিক থেকে কিছ ুকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ¯^াভাবিক হতে থাকে| তবে গতকাল রাত পর্যন্ত অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও লাইন সিরিজ হয়ে গেছে| অনেকেই বলেছেন বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করে লাইন মেরামত করতে পারেনি|
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১ টার দিকে চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ তীব্র ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়| এ সময় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ফার্মপাড়ার আলম হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৬) বাড়ির পাশের বিএডিসি ফার্মের ভেতরে আম কুড়াতে যান| অন্ধকারের মধ্যে ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া একটি সচল ˆবদ্যুতিক তারের সাথে অসাবধানতাবশত তার শরীর স্পর্শ করে| এতে তিনি গুরুতর আহত হন| পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান| হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তারেক জুনায়েদ জানান, রাত আড়াইটার দিকে সাদ্দাম হোসেনকে হাসপাতালে আনা হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল|
এর আগে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ে চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গায় গাছপালার ডাল ভেঙ্গে পড়ে| অনেকস্থানে গাছ উপড়ে পড়ে| ঝড়ের তাণ্ডবে আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা সড়কের মুন্সিগঞ্জ গৌহাট রোড এলাকায় একটি বিশাল গাছ উপড়ে সরাসরি সড়কের ওপর গিয়ে পড়ে| এতে মুন্সিগঞ্জ হাসপাতাল মোড় থেকে কৃষ্ণপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বাস, ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে| খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কেটে সরানোর কাজ শুরু করে| প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সড়কটি পরিষ্কার হলে পুনরায় যান চলাচল ¯^াভাবিক হয়| চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস জানায়, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি|
এদিকে মধ্যরাতের ঝড় ও বজ্র বৃষ্টিতে মানুষের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে| বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে আশপাশ| চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাসিন্দা আসাদুল হক বলেন, আমি আমার জীবনেও কখনো এমন বজ্রপাত দেখিনি| সারারাত যতক্ষণ ঝড় বৃষ্টি হয়েছে ততক্ষণই বজ্রপাত হয়েছে| রাতের বেলাতেও বাইরের সবকিছু দিনের আলোর মতো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল| বিকট শব্দে বজ্রপাত হচ্ছিল এতে আমরা খুবই আতঙ্কিত ছিলাম|
কৃষক শোয়েব আলী বলেন, এই ঝড়ে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে| বেশি ক্ষতি হয়েছে লিচু এবং আমে| যে সকল আম লিচুগুলো অল্প কিছুদিনের মধ্যে বাজারজাত করতাম তার অধিকাংশই ঝরে গিয়েছে| এই ঝড় আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতের মুখে ফেলল|
এই তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টির মধ্যেও সকাল থেকে সূর্যের প্রখরতা মেলে ধরে| সেইসাথে সারাদিনে ভ্যাপসা গরমে মানুষ অস্থির পড়ে|
আবহাওয়া অফিস জানায়, জেলায় কয়েকদিন এমন তাপপ্রবাহ বিরাজমান থাকবে এবং মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া সহ ঝড় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে| চুয়াডাঙ্গায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।