রকিবুজ্জামান/টিপু সুলতান, জীবননগর
জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে একুলন, বাইকুলন ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মৌসুমে এসব জাতের আঙুরে ভালো ফলন হওয়ায় বাম্পার ফলনের উৎপাদনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক সোহেল রানা জানান, ভৌগোলিক কারণে এ অঞ্চলে ধান, পাট ও ভুট্টার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফলের আবাদ হয়ে থাকে। গত বছর তিনি যশোর থেকে একুলন, বাইকুলন ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় পরীক্ষামূলকভাবে ১ কাঠা জমিতে ১২টি চারা রোপণ করেন। ফলন ও স্বাদে সন্তুষ্ট হয়ে এ বছর তিনি বাণিজ্যিকভাবে ১ বিঘা জমিতে একুলন জাতের আঙুর চাষ করেছেন।
তিনি আরও জানান, একুলন জাতের আঙুর ৯ থেকে ১১ মাসের মধ্যে ফলন দেয় এবং স্বাদে বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২৫০টি চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণ থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক ব্যয়সহ মোট প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১ বিঘা জমি থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছেন তিনি।
আরেক কৃষক জব্বার আলী জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ১০ কাঠা জমিতে একুলন জাতের আঙুর চাষ করেছেন। এ জাতের আঙুরের আকার-গঠন ভালো এবং ফলনও বেশি। ১০ কাঠা জমিতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বাজার চাহিদা অনুযায়ী প্রতি কেজি আঙুর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় সম্ভব বলে আশা করছেন তিনি।
কৃষক লিটন জানান, তিনি ১৫ কাঠা জমিতে আঙুর চাষ করেছেন এবং তার বাগানে ইতোমধ্যে ভালো ফল ধরেছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো লাভে বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল রানা জানান, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আঙুর চাষ হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলন সন্তোষজনক হলে কৃষকদের বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে আরও উৎসাহিত করা হবে।
হাসাদাহের করিমপুরে আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা একুলনসহ বিভিন্ন জাতের আঙুর চাষে বাম্পার ফলনের আশায় তিন কৃষক



